গাজা-পশ্চিম তীরে সহিংসতা

ইইউ‘র কঠোর পদক্ষেপ চায় আয়ারল্যান্ড

গাজা উপত্যকার ভয়াবহ পরিস্থিতি এবং পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ক্রমবর্ধমান সহিংসতার বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (EU) কেবল আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ‘সুনির্দিষ্ট ও কঠোর’ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আয়ারল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রী হেলেন ম্যাকএন্টি। সোমবার ব্রাসেলসে ইইউ ফরেন অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই দাবি জানান।

হেলেন ম্যাকএন্টি গাজার পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, আইনের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত একটি সম্প্রদায় হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আন্তর্জাতিক আইনের ধারাবাহিক লঙ্ঘন এবং দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পথকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধাগ্রস্ত করার কর্মকাণ্ড দেখে আর নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে না।

আইরিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইইউ’র প্রতি বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থার প্রস্তাব করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে-

বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা: ইসরায়েলের অবৈধ বসতিগুলোর সাথে সব ধরনের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করা।

চুক্তি স্থগিত: ইইউ-ইসরায়েল অ্যাসোসিয়েশন চুক্তির বাণিজ্যিক অংশগুলো অবিলম্বে স্থগিত করা।

ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা: সহিংস বসতি স্থাপনকারী এবং যারা তাদের সহযোগিতা করছে, তাদের ওপর জরুরি ভিত্তিতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।

পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর উগ্রবাদী বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হচ্ছে। আয়ারল্যান্ড আগে থেকেই ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে সোচ্চার থাকলেও, হেলেন ম্যাকএন্টির এই সরাসরি প্রস্তাব ইইউ’র ভেতরে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইইউ-ইসরায়েল বাণিজ্যিক চুক্তি বাতিলের বিষয়টি কার্যকর হলে তা ইসরায়েলের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক ধাক্কা হতে পারে।

আইরিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান আজ ব্রাসেলসের বৈঠকে অন্যান্য সদস্য দেশগুলোর ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। সূত্র: আলজাজিরা