ইরানের রাজধানী তেহরানে এক রাতের মধ্যে টানা ৯টি মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এই অস্বাভাবিক ও ধারাবাহিক কম্পনের ফলে দেশটিতে বড় ধরণের ভূমিকম্পের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, ভূত্বকের এই অস্থিরতা ভবিষ্যতে ভয়াবহ কোনো দুর্যোগের পূর্বাভাস হতে পারে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজ জানিয়েছে, বুধবার (১৩ মে) রাতে তেহরানের পূর্বদিকের পারদিস এলাকায় এই কম্পনগুলো অনুভূত হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৬। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভূমিকম্পগুলো মূলত ‘মোশা ফল্ট’ সংলগ্ন এলাকায় সংঘটিত হয়েছে, যা ইরানের অন্যতম সক্রিয় ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ফল্ট লাইনটি রাজধানী তেহরান থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অঞ্চলে মাঝেমধ্যে ছোট কম্পন হওয়া স্বাভাবিক হলেও এক রাতে ৯ বার কাঁপুনি অত্যন্ত বিরল এবং উদ্বেগের বিষয়।
ইরানি ভূকম্প বিশেষজ্ঞ মেহদি জারি বলেন, ‘এই কম্পনগুলো ভূগর্ভস্থ শক্তি নির্গমনের সংকেত কি না, নাকি আরও বড় কোনো ভূমিকম্পের আগমনী বার্তা, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা কঠিন।’
তবে তিনি সতর্ক করে জানান, তেহরানের ঘনবসতি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং দুর্বল অবকাঠামো যেকোনো মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পকেও বড় ধরণের মানবিক বিপর্যয়ে রূপ দিতে পারে।
দেড় কোটিরও বেশি মানুষের আবাসস্থল তেহরান শহরটি উত্তর তেহরান, মোশা ও রে- এই তিনটি বড় সক্রিয় ফল্ট লাইনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। ফলে শক্তিশালী কোনো ভূমিকম্প আঘাত হানলে জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম চালানো অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়বে।
বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ ইরান ২০০৩ সালে বাম (Bam) শহরে এক ভয়াবহ ভূমিকম্প দেখেছিল, যাতে ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। গতরাতের এই ধারাবাহিক কম্পন ইরানিদের মনে সেই পুরনো স্মৃতি ও আতঙ্ক নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে। সূত্র: আল জাজিরা ও মেহের নিউজ