লেবাননে সামরিক যানে ইসরায়েলি বিমান হামলা, নিহত ১

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলায় লেবানন সেনাবাহিনীর এক সদস্য নিহত এবং এক কর্মকর্তাসহ আরও দুই সৈন্য গুরুতর আহত হয়েছেন। 

বুধবার (৩ জুন) নাবাতিয়েহ শহরের কাছে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে। লেবানিজ সশস্ত্র বাহিনী (এলএএফ) এই ঘটনাকে তাদের ওপর সুপরিকল্পিত আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করেছে। 

তাদের দাবি, ইসরায়েলি বাহিনী কোনো ভুলবশত নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সেনাসদস্য, সামরিক যানবাহন এবং তাদের সেন্টারে এই হামলা চালিয়েছে।

ঘটনার শুরু হয় একটি ইসরায়েলি ড্রোন হামলার মধ্য দিয়ে, যেখানে টহলরত লেবানিজ সেনাবাহিনীর একটি গাড়িকে সরাসরি নিশানা করা হয়। এতে গাড়িতে থাকা দুজন সৈন্য গুরুতর জখম হন, যাদের মধ্যে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। এর পরপরই নাবাতিয়েহ শহরের কাছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে উপর্যুপরি বোমা বর্ষণ করা হয়, যাতে প্রাণ হারান ওই লেবানিজ সৈনিক। হামলার ভয়াবহতা প্রকাশ করে সেনাবাহিনী একটি ছবি প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে বোমার আঘাতে একটি সামরিক পিকআপ ট্রাকের দরজা উড়ে গেছে এবং পুরো গাড়িটি ধোঁয়াটে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। নাবাতিয়েহ ও তার আশপাশের এলাকাটি বেশ কিছুদিন ধরেই ইসরায়েলি বিমান হামলার মূল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে এবং সম্প্রতি ইসরায়েল ওই অঞ্চলের সাধারণ বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করেছিল।

এই হামলার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সাথে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এর আগের বিভিন্ন ঘটনায় আইডিএফ দাবি করে এসেছে যে, লেবাননে তাদের মূল লক্ষ্যবস্তু কেবল হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো এবং সশস্ত্র যোদ্ধারা, লেবাননের রাষ্ট্রীয় সেনাবাহিনী নয়। তা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি বাহিনীর নিখুঁত হামলার আওতায় বারবার লেবাননের জাতীয় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা প্রাণ হারাচ্ছেন, যা এই অঞ্চলের ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। এই ধরনের সরাসরি আঘাত লেবাননের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও ভঙ্গুর করে তুলছে এবং হিজবুল্লাহর পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সাথেও ইসরায়েলের সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সূত্র: সিএনএন