মাংস এখন স্বপ্ন’, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইরানে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি

ইরানে মূল্যস্ফীতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ বলে বিবেচিত হচ্ছে। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম লাগামহীনভাবে বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

রাজধানী তেহরান থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন শহরে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনার বিষয় খাদ্যপণ্যের দাম। অনেক পরিবারের জন্য লাল মাংস কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। একসময় নিয়মিত খাদ্যতালিকায় থাকা মাংস এখন বহু মানুষের কাছে বিলাসী পণ্যে পরিণত হয়েছে।

ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি পৌঁছেছে ৭৭ দশমিক ২ শতাংশে। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির হার আরও বেশি, যা ১১৩ শতাংশেরও ওপরে উঠে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ, যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতি, দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার সম্মিলিত প্রভাবে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। একই সঙ্গে জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের ব্যাপক দরপতন মানুষের ক্রয়ক্ষমতাকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে।

সরকার ইতোমধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য আমদানির জন্য বিশেষ ভর্তুকি চালু করা হয়েছে এবং কৌশলগত খাদ্য মজুত বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ পুরোপুরি কমাতে পারেনি।

অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, মূল্যস্ফীতির এই ধারা অব্যাহত থাকলে সামাজিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। অতীতেও খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ইরানে বড় ধরনের বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। 

ফলে যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থনৈতিক সংকটের এই ত্রিমুখী চাপে ইরানের সাধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় লড়াই এখন আর রাজনীতি নয়, বরং প্রতিদিনের খাবারের ব্যবস্থা করা। সূত্র: আলজাজিরা