মার্কিন নৌ অবরোধে ইরানের ক্ষতি ৬ বিলিয়ন ডলার

আপডেট : ০৫ জুন ২০২৬, ১০:০১ পিএম

মার্কিন নৌ অবরোধের কারণে ইরান কয়েক মাসের মধ্যেই তেল রপ্তানি থেকে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রাজস্ব হারিয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে উঠে এসেছে। এই অবরোধের ফলে দেশটির জ্বালানি খাত এবং বৈদেশিক আয়ের প্রধান উৎস মারাত্মক চাপের মুখে পড়েছে।

গত এপ্রিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোকে কেন্দ্র করে নৌ অবরোধ কার্যকর করতে শুরু করে। এর ফলে ইরানি তেলবাহী জাহাজের চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয় এবং বহু ট্যাংকার সমুদ্রে আটকা পড়ে।

তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে যেখানে ইরান দৈনিক প্রায় ১৯ লাখ ব্যারেল তেল ও কনডেনসেট রপ্তানি করছিল, সেখানে মে মাসে সেই পরিমাণ নেমে আসে মাত্র দুই থেকে তিন লাখ ব্যারেলের মধ্যে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি অন্তত ছয় বছরের মধ্যে ইরানের সর্বনিম্ন তেল রপ্তানি।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের তেল আয়ে প্রায় ৪ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়েছে। পরবর্তীতে রপ্তানি আরও কমে যাওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অবরোধের কারণে শুধু ইরানই নয়, পুরো অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাও চাপের মুখে পড়েছে। হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপরও প্রভাব পড়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তেল রপ্তানি ইরানের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ফলে এই আয় কমে যাওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, আমদানি সক্ষমতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে দেশটির মুদ্রার মান ও মূল্যস্ফীতির ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

তবে অবরোধের মধ্যেও কিছু ইরানি জাহাজ বিকল্প রুট ব্যবহার করে বা তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর মাধ্যমে তেল পরিবহনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবুও সামগ্রিকভাবে রপ্তানির পরিমাণে বড় ধরনের পতন ঠেকানো সম্ভব হয়নি। সূত্র: আলজাজিরা

AS
আরও পড়ুন