ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র ও এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদারের সম্ভাবনা বিবেচনা করছিলেন। বৈঠকে জেনারেল কেইন বিশেষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের মজুত এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
একটি সূত্র জানায়, কেইন ট্রাম্পকে বলেন, মার্কিন বাহিনী তার নির্দেশিত সামরিক বিকল্প বাস্তবায়নে সক্ষম হলেও এর সম্ভাব্য পরিণতিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ ছিল বৈঠকে উত্থাপিত একাধিক বিষয়ের একটি।
এর মধ্যেই প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে টানা রাতভর বিমান হামলার পর শুক্রবার রাতে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি সূত্র সিএনএনকে জানিয়েছে, সামরিক অভিযান বর্তমানে বিরতিতে রয়েছে।
তবে এই বিরতির মূল কারণ অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে উদ্বেগ নাকি যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চিউং এক বিবৃতিতে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময় কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তবে ইরান যদি হরমুজ প্রণালি বা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের বিরুদ্ধে তৎপরতা চালিয়ে যায়, তাহলে প্রয়োজনীয় সব বিকল্প এখনো খোলা রয়েছে।
তিনি দাবি করেন, নিষেধাজ্ঞা এবং টানা ১৩ দিনের সামরিক হামলায় ইরানের অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে। তাই তেহরানের জন্য আলোচনার পথ বেছে নেওয়াই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে। তবে প্রয়োজন হলে সামরিক অভিযান আবারও শুরু হতে পারে, এমনকি আরও তীব্র আকারেও পরিচালিত হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর আগেই জেনারেল কেইনসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে সতর্ক করেছিলেন যে দীর্ঘস্থায়ী অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
তবে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্টের নির্দেশ অনুযায়ী যেকোনো সময় ও স্থানে অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সব সক্ষমতা ধরে রেখেছে। সূত্র: সিএনএন
মার্কিন হামলা বন্ধে পাল্টা হামলা থামাচ্ছে ইরান
'ইরানি জাহাজে ইউক্রেনের হামলার জবাব দেবে তেহরান'
ইসরায়েলকে স্বীকৃতি নয় : মার্কিন হুমকি প্রত্যাখান মালয়েশিয়ার