যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী জাহাজ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
সোমবার (১৫ জুন) জাহাজটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার তথ্যের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই খবরটি নিশ্চিত করেছে। সংবাদমাধ্যম শাফাক নিউজের এক প্রতিবেদন থেকেও এই তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান ‘পেট্রোনেট’ পরিচালিত এলএনজি বাহী জাহাজটি সফলভাবে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের দিকে নিজের গন্তব্যে যাত্রা করে। সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তির শর্তাবলির অংশ হিসেবেই হরমুজ প্রণালিকে আবার সব ধরনের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত বা খুলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত কঠোর নৌ অবরোধও আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালির ভূমিকা অপরিসীম। বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালি দিয়েই বিভিন্ন দেশে পরিবহন করা হয়ে থাকে। ফলে, দীর্ঘ সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার পর প্রণালিটি পুনরায় চালু হওয়ায় বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরবে বলে প্রবল আশা প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকেরা।
এই শান্তি চুক্তি এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়টিকে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বিশ্ব সম্প্রদায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মন্তব্য করেছেন যে, এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি হতে পারে।
এদিকে, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লায়েন এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে নিজের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি জোরালোভাবে উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই শান্তি চুক্তিটি অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এবং পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়ন করা। এর পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখতে হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের অতিরিক্ত টোল বা শুল্ক আরোপ ছাড়া সব দেশের জন্য অবাধ ও নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করারও বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।