প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানকে ঘিরে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইরান। লাখো মানুষের উপস্থিতি এবং বিদেশি অতিথিদের অংশগ্রহণের কথা মাথায় রেখে রাজধানী তেহরানসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার (৩ জুলাই) ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের ভুল পদক্ষেপ বা হামলার চেষ্টা হলে তার জবাব হবে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও কঠোর ও বিধ্বংসী। তাদের ভাষায়, এমন প্রতিক্রিয়া হামলাকারীদের ইতিহাসে চিরস্থায়ী কলঙ্ক হিসেবে লিপিবদ্ধ হবে।
এই সতর্কবার্তা আসে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর। গত সোমবার (২৯ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তিনি দাবি করেন, ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি ‘মৃত্যুর জন্য চিহ্নিত’।
খামেনির শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। ফলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এ ধরনের জনসমাগমে কোনো হামলা হলে প্রাণহানির সংখ্যা ভয়াবহ হতে পারে। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে উপস্থিত শীর্ষ ইরানি কর্মকর্তাদের জন্যও হত্যাচেষ্টার ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে তেহরানের বিভিন্ন সড়কে নিরাপত্তা বাহিনীর টহল জোরদারের দৃশ্য দেখা গেছে। এরই মধ্যে সোমবারের জন্য রাজধানীর আকাশসীমাও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান।
ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের ইরান শাখার সাবেক প্রধান ড্যানি সিত্রিনোভিচের মতে, ইরান আকাশ ও স্থল, দুই দিক থেকেই সম্ভাব্য হুমকি বিবেচনায় নিচ্ছে। সে কারণেই কোনো ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের আরেকটি আলোচনার বিষয় হলো, এই শোকানুষ্ঠানেই কি প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আসবেন মোজতবা খামেনি। তার বাবা ও পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হওয়ার পর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
তবে ইরানের নিরাপত্তা উদ্বেগ শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে ঘিরেই নয়। দেশটির অভ্যন্তরে অতীতে সরকারের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানো কুর্দি সশস্ত্র গোষ্ঠী, আরব ও বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মতো সংগঠনগুলোকেও সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাসিত মুজাহিদিন-ই-খালক সংগঠনের দিকেও নজর রাখছে তেহরান, যাদের বিরুদ্ধে বহু বছর ধরে ইরানের ভেতরে হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
তবে সিত্রিনোভিচের মতে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ ভাহিদিসহ একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার প্রকাশ্যে উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকলেও নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখছে ইরান। সূত্র: সিএনএন