ইরানে ফের 'শক্তিশালী' হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনরত মার্কিন বাহিনীর ওপর আকস্মিক হামলার চেষ্টার জবাবে ইরানে জোরালো বিমান হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিশ্চিত করে জানিয়েছে, জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে চালানো হামলার জবাবে এই ‘শক্তিশালী পদক্ষেপ’ গ্রহণ করা হয়েছে।

কয়েকদিনের আপেক্ষিক শান্তির পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের তীব্রতা আবারও বৃদ্ধি পেল। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক হামলা চালানোর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটি কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হওয়ার কথা বললেও যুদ্ধটি ইতিমধ্যেই পাঁচ মাসে গড়িয়েছে।

বুধবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, আমরা তাদের খুব শক্ত আঘাত হানতে যাচ্ছি, কারণ এবার আমাদের আঘাত হানার পালা। তারা ভালো করেই জানে এটি আসছে।

এর আগে ইরানি ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করে, তারা জর্ডানে একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটি ও কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এছাড়াও, সতর্কতা উপেক্ষা করায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারেও হামলার দাবি করে সংস্থাটি।

এদিকে, জর্ডান ও হরমুজ প্রণালির ঘটনার ঠিক একদিন আগে ইরাকে যৌথ অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। মার্কিন সেন্টকমের তথ্যমতে, গত ৭২ ঘণ্টায় আইআরজিসি পরিচালিত ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলার জবাবে পূর্ব ইরাকে ইরান সমর্থিত মিলিশিয়াদের একাধিক রসদ ও অস্ত্র ঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়। ওই হামলায় পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)-এর অন্তত ২০ জন সদস্য নিহত হয়েছেন বলে সংগঠনটি দাবি করে।

ইরাকের প্রেসিডেন্টের দপ্তর এ হামলার কঠোর নিন্দা জানিয়ে এটিকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করলেও ট্রাম্প দাবি করেছেন, অভিযানটি ইরাক সরকারের সাথেই সমন্বয় করে চালানো হয়েছিল।

অন্যদিকে, সংঘাত প্রশমনেরও কিছু কূটনৈতিক তৎপরতা দৃশ্যমান হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'অ্যাক্সিওস' তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের সাথে বৈঠকে ট্রাম্পকে সংঘাত কমানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

কয়েকদিন আগেই হামলা স্থগিত রাখার পর ট্রাম্প সেটিকে খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করলেও তেহরান কোনো ধরনের আলোচনার কথা অস্বীকার করেছিল। সূত্র: বিবিসি