পশ্চিম তীরের কালান্দিয়া শরণার্থী শিবিরে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। রামাল্লাহর দক্ষিণে এবং অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের উত্তরে অবস্থিত এই শিবিরে কয়েক দিন ধরে অভিযান চলতে পারে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
ইসরায়েলের দাবি, শিবিরে থাকা কথিত ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ ধ্বংস করাই এ অভিযানের মূল লক্ষ্য। কালান্দিয়া রামাল্লাহ ও উত্তর অধিকৃত পশ্চিম তীরের সঙ্গে পূর্ব জেরুজালেম এবং দক্ষিণের বিভিন্ন শহরের সংযোগকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ হওয়ায় এলাকাটিকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তবে সাংবাদিকদের শরণার্থী শিবিরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অভিযানের সময় ইসরায়েলি সেনারা বাড়িঘরে তল্লাশি চালিয়েছে, বিভিন্ন সম্পত্তির ক্ষতি করেছে এবং কয়েকটি বাড়িকে অস্থায়ী জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করছে। সেখানে বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও তারা দাবি করেছেন।
স্থানীয় চিকিৎসাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানে আহত হওয়া কয়েকজনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত দুজনকে ইসরায়েলি সেনারা গুরুতরভাবে মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এ অভিযানের সঙ্গে ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিরও যোগ রয়েছে। দেশটিতে নির্বাচনকাল চলমান থাকায় নিরাপত্তা ইস্যুকে সামনে এনে কঠোর অবস্থান প্রদর্শনের চেষ্টা করছে সরকার। এর আগে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অধিকৃত পশ্চিম তীরের শরণার্থী শিবিরগুলোতে সেনাবাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি নিশ্চিত করার ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেছিলেন।
জেনিন ও তুলকারেমে পরিচালিত আগের সামরিক অভিযানের উদাহরণ টেনে ফিলিস্তিনিরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, কালান্দিয়াতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। ওইসব অভিযানে শরণার্থী শিবিরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং ৩০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হন। তাদের অনেকেই এখনো নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যেতে পারেননি।
এদিকে ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে ডানপন্থী ইসরায়েলি সরকার ফিলিস্তিনিদের জীবনকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে। তাদের দাবি, ডানপন্থী গণমাধ্যমগুলোও এই সামরিক অভিযানের প্রকাশ্য সমর্থন দিচ্ছে।
ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের আরও অভিযোগ, কালান্দিয়ায় অবস্থিত ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ (UNRWA)-এর কারিগরি ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র দখল এবং আরও বেশি বাড়িঘর ধ্বংসের পক্ষে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। শত শত শিক্ষার্থীকে সেবা দেওয়া এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র দখলকে তারা সরকারের রাজনৈতিক সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে। একই সঙ্গে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম ও এর আশপাশে ফিলিস্তিনিদের উপস্থিতি দুর্বল করার প্রচেষ্টার অংশ বলেও তারা অভিযোগ করেছেন।