গ্রিসে স্কটিশ ত্রাণকর্মী এলিজাবেথ রসকে হত্যার অভিযোগে ২৬ বছর বয়সী এক আফগান বক্সারকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ একটি স্যুটকেসের ভেতরে পাওয়া যায় রাজধানী এথেন্সের একটি পরিত্যক্ত নির্মাণস্থলে।
গ্রিক আইনের কারণে অভিযুক্তের নাম প্রকাশ করা হয়নি। তার বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত হত্যা, ডাকাতি এবং অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আদালত তাকে বিচারিক হেফাজতে পাঠিয়েছে। তবে তিনি ইচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
দক্ষিণ-পূর্ব আটিকা পুলিশের কর্মকর্তা জর্জ কালিয়াকমানিস জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়। ভিডিওতে তাকে একটি বড় স্যুটকেস টেনে নিয়ে যেতে দেখা যায়। পরে একই স্যুটকেসে এলিজাবেথ রসের মরদেহ উদ্ধার হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত দাবি করেন, তিনি এলিজাবেথ রসকে বাথরুমে মৃত অবস্থায় পান। এরপর আতঙ্কিত হয়ে মরদেহ সরিয়ে ফেলেন। তবে তদন্তকারীরা এখনও খতিয়ে দেখছেন তিনি কীভাবে ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেছিলেন এবং নিহত নিজেই দরজা খুলেছিলেন নাকি তার কাছে চাবি ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত এলিজাবেথ রসের ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে প্রায় ১০ হাজার ইউরো উত্তোলনের কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া নিহতের মৃত্যুর পরও তার মোবাইল ফোন ব্যবহার করে পরিচিতজনদের কাছে বার্তা পাঠানো হয়েছিল, যাতে মনে হয় সেগুলো এলিজাবেথ নিজেই পাঠিয়েছেন। মরদেহ উদ্ধারের পর সেই বার্তা পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়।
প্রাথমিক ময়নাতদন্তে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে শ্বাসরোধে মৃত্যুর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, শরণার্থী সহায়তামূলক কাজের সূত্রে অভিযুক্ত ও এলিজাবেথ রসের পরিচয় হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এলিজাবেথ রসের পরিবারের পাশে রয়েছে স্কটল্যান্ড পুলিশ। বাহিনী জানিয়েছে, তারা গ্রিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তদন্তে সহযোগিতা করছে এবং নিহতের পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। সূত্র: সিএনএন