কাতারে আটক রয়েছেন বলে দাবি করা তিন ইরানি পাইলটের বিষয়টি অনুসরণ করে তাদের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যের তথ্য তেহরানকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে ইরান। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির কাছে চিঠি দিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফের নিখোঁজ সদস্য অনুসন্ধান কমিটির কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ বাঘেরজাদেহ।
আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির প্রেসিডেন্ট মিরজানা স্পোলিয়ারিচ এগারের কাছে পাঠানো চিঠিতে বাঘেরজাদেহ বলেন, বিশ্বাসযোগ্য তথ্য অনুযায়ী তিন ইরানি পাইলটকে জীবিত অবস্থায় কাতারি বাহিনী আটক করেছে। নিখোঁজ ওই তিন পাইলট হলেন জাভাদ সালেহি, আবদোলমাজিদ দাশতিয়ান ও ওমরান বেহরাভেশিয়ান।
চিঠি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে পরিচালিত একটি সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন ওই পাইলটরা। পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ তীরে অবস্থিত আরব দেশগুলোর ঘাঁটি থেকে ওই হামলা পরিচালিত হয়েছিল বলে চিঠিতে দাবি করা হয়।
ইরানি সামরিক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, কাতারে একটি শত্রু সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত অভিযানে অংশ নেওয়া চার পাইলটের একজন নিহত হন। বাকি তিনজনের যুদ্ধবিমান আকাশ প্রতিরক্ষার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা বিমান থেকে বের হয়ে যান এবং পরে কাতারে থেকে যান বলে দাবি করা হয়েছে।
বাঘেরজাদেহ অভিযোগ করেন, গত ছয় মাস ধরে কাতারি সরকার আন্তর্জাতিক আইন ও জেনেভা কনভেনশনসহ প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী আটক ইরানি পাইলটদের অধিকার উপেক্ষা ও লঙ্ঘন করছে।
তার দাবি, কূটনৈতিক যোগাযোগ ও বিভিন্ন পর্যায়ে অনুসন্ধানের পরও দোহা ইরানি কর্তৃপক্ষকে ওই পাইলটদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, কথা বলা কিংবা তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ দেয়নি।
চিঠিতে তৃতীয় জেনেভা কনভেনশনের ৭০ ও ৭৮ নম্বর ধারার কথাও উল্লেখ করেন বাঘেরজাদেহ। তিনি বলেন, যুদ্ধবন্দিদের আটকের বিষয়টি তাদের পরিবার ও আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটিকে জানানোর সুযোগ থাকা উচিত। পাশাপাশি আটক ব্যক্তিদের অভিযোগ ও আবেদন রেডক্রসের প্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরার অধিকার রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ অবস্থায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিখোঁজ সদস্য অনুসন্ধান কমিটি আন্তর্জাতিক রেডক্রসের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দ্রুত কাতারে গিয়ে ওই তিন পাইলটের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার আহ্বান জানিয়েছে।
একই সঙ্গে তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ইরানকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইরানি কমিটি বলেছে, মানবিক দায়িত্ব ও দুই পক্ষের সহযোগিতার কাঠামোর আওতায় বিষয়টি দ্রুত অনুসরণ করা প্রয়োজন। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি