যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে এককভাবে যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা ইসরায়েলের নেই বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর রাজনৈতিক বিভাগের উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদোল্লাহ জাভানি। তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইসরায়েল মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের একটি প্রক্সি শক্তি হিসেবেই অংশ নিয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাভানি বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা কাঠামোয় সাম্প্রতিক কমান্ডার নিয়োগগুলো একটি ‘রূপান্তরমূলক’ কৌশলের অংশ। ইরান-ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞ সাবেক কমান্ডারদের নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং শীর্ষ কমান্ডারদের নিহত হওয়ার পর যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করা কর্মকর্তাদেরই গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হয়েছে বলে জানান তিনি।
জাভানি বলেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ মোজতবা খামেনির নতুন নিয়োগসংক্রান্ত ডিক্রিগুলোতেও বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিরক্ষা নীতির ইঙ্গিত রয়েছে। বিশেষ করে বাসিজের প্রধান হিসেবে হোজ্জাতুল ইসলাম হোসেইন তাইয়েবকে নিয়োগের ডিক্রিতে ‘গোয়েন্দা নেটওয়ার্ক’ এবং ‘প্রত্যেক ইরানি একজন বাসিজ’, এ ধরনের বক্তব্যকে তিনি ভবিষ্যতমুখী প্রতিরক্ষা কাঠামোর উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন।
আইআরজিসির নতুন কমান্ড কাঠামোর লক্ষ্য সর্বোচ্চ মাত্রার প্রতিরোধ সক্ষমতা অর্জন বলেও জানান জাভানি। তাঁর ভাষায়, ইরানের প্রতিরক্ষামূলক অভিযান প্রয়োজনে এখন আক্রমণাত্মক চরিত্রও ধারণ করতে পারে।
তিনি বলেন, ইরান কখনো যুদ্ধ শুরু করেনি। তবে যুদ্ধের মধ্যে থাকা অবস্থায় শত্রু যদি নতুন সুযোগ খোঁজে, তাহলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও তাদের প্রতিরক্ষা নীতিতে রূপান্তরমূলক পরিবর্তন আনবে।
জাভানি আরও সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে আকস্মিক কোনো অভিযান চালিয়ে দেশটির বাহিনীকে অপ্রস্তুত অবস্থায় পাওয়া সম্ভব হবে না। বরং ভবিষ্যতে কৌশলগত আকস্মিকতার মুখে শত্রুকেই পড়তে হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের সাম্প্রতিক যুদ্ধের ফলাফল নিয়েও কথা বলেন আইআরজিসির এই কর্মকর্তা। তাঁর দাবি, ভুল হিসাবের ভিত্তিতে শুরু করা আগের যুদ্ধ নিজেদের ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। ইসরায়েলও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সমর্থন ছাড়া সংঘাতে প্রবেশ করেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জাভানি বলেন, ১২ দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলের অংশগ্রহণও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তাঁর ভাষায়, ইরানের সঙ্গে এককভাবে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে যাওয়ার সক্ষমতা ইসরায়েলের নেই।
এদিকে জাভানির মন্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন তেহরান প্রকাশ্যে তাদের প্রতিরক্ষা নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আলজাজিরার সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও তাঁর বক্তব্যকে ইরানের প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে আরও আক্রমণাত্মক ‘সর্বোচ্চ প্রতিরোধ’ নীতির দিকে যাওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সামরিক সহযোগিতা সম্পর্কে জাভানির মন্তব্য ইরানের একজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তার দাবি, এগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য নয়। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি