উপসাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্র দায়ী: বাঘাই

পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের সাম্প্রতিক তেল দূষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও আঞ্চলিক সামরিক অভিযানকে দায়ী করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, গত পাঁচ দশকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিবেশের যে ক্ষতি হয়েছে, তার দায় ওয়াশিংটনকে নিতে হবে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই বলেন, সাম্প্রতিক তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাগুলোকে শুধু বর্তমান যুদ্ধের সঙ্গে দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। তাঁর দাবি, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের পরিবেশগত ক্ষতি বহু দশকের সামরিক তৎপরতার ফল।

বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি এবং গত পাঁচ দশকে অঞ্চলটিতে চালানো যুদ্ধ থেকেই এই পরিবেশগত ক্ষতির সূত্রপাত হয়েছে। তাঁর মতে, বর্তমান যুদ্ধের বাইরেও দীর্ঘ সময় ধরে উপসাগরীয় জলসীমার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানি মুখপাত্র এই ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান। পরিবেশগত ক্ষতির আর্থিক মূল্য ট্রিলিয়ন ডলার হতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।

ইরানের এই অভিযোগ এমন সময়ে এলো, যখন হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপকূলজুড়ে একাধিক তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা সামনে এসেছে। রয়টার্সের স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কেশম দ্বীপের কাছে একটি তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা এবং ওমানের উপকূলের কাছে আরেকটি বড় তেল দূষণ আলাদাভাবে শনাক্ত হয়েছে। ওমানের কাছে ছড়িয়ে পড়া তেলের পরিমাণ ও বিস্তারও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

তবে সাম্প্রতিক দূষণের সবগুলো ঘটনাকে সরাসরি মার্কিন সামরিক কর্মকাণ্ডের ফল হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। কেশম দ্বীপের কাছে একটি তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ইরান আগে একটি বিদেশি বাল্ক ক্যারিয়ারকে সম্ভাব্য উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছিল। অন্যদিকে রয়টার্সের প্রতিবেদনে ওই ঘটনার সঙ্গে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি জাহাজের সম্ভাব্য সম্পর্কের কথাও উঠে এসেছে।

ফলে তেল দূষণকে কেন্দ্র করে পরিবেশগত সংকটের পাশাপাশি নতুন করে রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নও সামনে এসেছে। ইরান একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতিকে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ক্ষতির জন্য দায়ী করছে, অন্যদিকে হরমুজ ও উপসাগর ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর চাপ আরও বাড়ছে। সূত্র: ডন