যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যু্দ্ধের হুমকিকে ‘ধোঁকাবাজি’ বললো তেহরান

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক চাপের মুখে মিত্র দেশগুলোকে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, ইরানের অর্থনীতিকে বিচ্ছিন্ন করতে সোমবার লক্ষ্যভিত্তিক নতুন কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে। তাঁর দাবি, এসব পদক্ষেপ কার্যকর হলে ভবিষ্যতে আরও সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজন কমতে পারে।

মার্কিন মিত্রদের উদ্দেশে বেসেন্ট কঠোর অবস্থান তুলে ধরে বলেন, ‘আপনি হয় আমাদের সঙ্গে, নয়তো আমাদের বিরুদ্ধে।’ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার ‘পূর্ণ শক্তি ও সামর্থ্য’ প্রয়োগ করবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

তবে ওয়াশিংটনের এই হুমকি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত তথাকথিত ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’কে আমেরিকার নিজস্ব সংকট থেকে দৃষ্টি সরানোর একটি কৌশল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

ইরানের রাজধানী তেহরানের ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক মোস্তফা খোশচেশমও মার্কিন অর্থনৈতিক চাপের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের ওপর গত ১৫ থেকে ১৬ বছর ধরে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।

তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার পরও ইরানের অর্থনীতিকে পুরোপুরি ভেঙে দিতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। ফলে নতুন করে একই ধরনের চাপ প্রয়োগ করলেও তা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপের লক্ষ্য শুধু ইরানের অর্থনীতিকে চাপে ফেলা নয়, বরং তেহরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক রাখা দেশগুলোকেও নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে বাধ্য করা। ফলে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে তেহরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মোকাবিলায় রাশিয়া, চীনসহ অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করে, তাহলে ওয়াশিংটনের পরিকল্পনা কতটা সফল হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।