বিধ্বংসী জবাব দিতে প্রস্তুত ইরান: সেনাপ্রধান

আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম

ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, শত্রুপক্ষ আরেকবার কোনো ভুল করলে তার যেকোনো হুমকির জবাব দেবে ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী। তিনি বলেন, প্রস্তুতি ও সতর্কতা বজায় রেখে শত্রুর যেকোনো নতুন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান।

সোমবার (৫ অক্টোবর) ফারস প্রদেশে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটের কমান্ডার ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন হাতামি। তিনি বলেন, দেশের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও সতর্কতা বজায় রাখছে। শত্রুপক্ষ আরেকটি ভুল করলে তার হুমকির বিরুদ্ধে শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে।

ফারস প্রদেশে সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন শাখার মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয়ের প্রশংসা করে হাতামি বলেন, এই প্রদেশে বাহিনীগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় ঐক্য ও সংহতির একটি ভালো উদাহরণ। দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এ ধরনের সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

সাম্প্রতিক যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির প্রসঙ্গ তুলে ইরানের সেনাপ্রধান বলেন, যুদ্ধের ফলে ক্ষতি হলেও এর ফল আত্মসমর্পণ নয়, বরং দেশের জন্য সম্মান ও গৌরব বয়ে এনেছে। তার দাবি, সামরিক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হওয়ার পর শত্রুপক্ষ এখন নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপের পথ বেছে নিয়েছে। একই সঙ্গে মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিরতা তৈরির বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

হাতামি বলেন, যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। সামরিক ময়দানে ব্যর্থ হওয়ার পর শত্রুপক্ষ কৌশল পরিবর্তন করে নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক সংকট এবং বিভিন্ন ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরির মাধ্যমে ইরানের জনগণের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে। এ অবস্থায় সশস্ত্র বাহিনীকে প্রস্তুতি ও সতর্কতা বজায় রাখতে হবে।

সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো থেকে অর্জিত কৌশলগত সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১২ দিন ও ৪০ দিনের যুদ্ধে তৈরি হওয়া সুযোগগুলো কাজে লাগিয়ে অর্জনগুলো আরও সুসংহত করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের ওপর যুদ্ধের ছায়া দূরে রাখতে দৃঢ়তা ও প্রতিরোধের পথ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

যুদ্ধের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে উদ্যোগ ও সৃজনশীলতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন হাতামি। তার ভাষ্য, এমন যেকোনো সৃজনশীল পদক্ষেপ, যা শত্রুপক্ষের হিসাব-নিকাশে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে, তা মূল্যবান।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু করে। পরে ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফার হামলা শুরু হয়, যা ৪০ দিন পর এপ্রিলের শুরুতে থামে। ইরানের প্রতিরোধ ও পাল্টা অভিযানের মুখে দুই ক্ষেত্রেই আগ্রাসীরা যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এ ছাড়া দ্বিতীয় দফার যুদ্ধের শুরুর দিক থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি

এএস
আরও পড়ুন