যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসলামাবাদে হওয়া সমঝোতা স্মারকের কোনো ধারাতেই আত্মসমর্পণের ইঙ্গিত নেই বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত হওয়া এই সমঝোতা ইরানের জন্য সম্মানজনক ও গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) ইরানি মেডিকেল কমিউনিটির ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশনের ৩১তম সাধারণ সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে সমঝোতাটির পক্ষে অবস্থান তুলে ধরেন পেজেশকিয়ান। তার ভাষ্য, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদে ঐক্যের ভিত্তিতে সমঝোতাটি সম্পন্ন হয়েছে এবং এতে সংশ্লিষ্ট সবাই তা দৃঢ়ভাবে অনুমোদন ও সমর্থন করেছেন।
সরকারের বাইরে থাকা কিছু সমালোচকের বক্তব্যের সমালোচনা করে পেজেশকিয়ান বলেন, রাষ্ট্র, সংসদ ও সামরিক কমান্ডাররা যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তা না বুঝেই অনেকে সমঝোতা নিয়ে মন্তব্য করছেন। তার দাবি, ওই সমঝোতার একটি ধারাও দেখানো সম্ভব নয়, যেখানে ইরানের আত্মসমর্পণের কোনো ইঙ্গিত রয়েছে। বরং সব প্রতিশ্রুতিই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষের বলে দাবি করেন তিনি।
পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান অবস্থানে থাকা অবস্থায় যুদ্ধের অবসান ঘটানোই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত। তার দাবি, বিশ্বও ইরানের বিজয়কে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং স্কুল, হাসপাতাল ও অবকাঠামোয় হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক সব ধরনের নীতি ও বিধি লঙ্ঘন করায় দেশটির প্রতি বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে।
তবে যুদ্ধের অবসানকে কোনোভাবেই আগ্রাসনের কাছে ইরানের নতি স্বীকার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও সতর্ক করেন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ইরান কখনোই কোনো ধরনের চাপ বা দাদাগিরির কাছে মাথা নত করবে না। দেশের জনগণ শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে এবং আগ্রাসনের জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে।
জাতীয় ঐক্যের ওপরও জোর দেন পেজেশকিয়ান। দেশের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের পেছনে ব্যক্তিগত অহংবোধ ও স্বার্থকে দায়ী করে তিনি বলেন, ভিন্ন মত ও দৃষ্টিভঙ্গি মেনে নিয়েই ইরানিদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ঐক্য থাকলে দেশ শক্তিশালী হবে, আর বিভক্ত হলে ধ্বংস অনিবার্য, এমন সতর্কবার্তাও দেন তিনি।
এ সময় চিকিৎসক সমাজের প্রতিও আহ্বান জানান পেজেশকিয়ান। শুধু সমস্যার বর্ণনা না করে চিকিৎসা ও সমাধানে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের সেবা এবং দেশের জন্য সফলতার একটি কার্যকর মডেল গড়ে তুলতে সরকারের চিকিৎসক সমাজের সহযোগিতা প্রয়োজন। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি