'যুদ্ধ শুরু করেনি, আগ্রাসনও মানবে না ইরান' 

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম

ইরান কখনো কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না বলে দাবি করেছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাইয়্যেদ মাজিদ ইবন আল-রেজা। তবে ইরানের ভূখণ্ড, স্বাধীনতা কিংবা নিরাপত্তার ওপর যেকোনো সামরিক আগ্রাসন প্রতিহত করা হবে বলেও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) তেহরানের ইমাম খোমেনি মোসাল্লায় জুমার নামাজের আগে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন ইবন আল-রেজা। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে।

ইরানি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী কখনো যুদ্ধ শুরু করেনি। তবে দেশের স্বাধীনতা, ভূখণ্ড ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের সুযোগও কাউকে দেওয়া হবে না। তাঁর ভাষায়, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার উদ্দেশ্য যুদ্ধ বাধানো নয়, বরং যুদ্ধ ও আগ্রাসন ঠেকানো।

ইবন আল-রেজার বক্তব্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের অভিজ্ঞতাও উঠে আসে। তিনি বলেন, ইরান যেটিকে রমজান যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করছে, তাতে প্রবেশের সময় দেশটির সামরিক সক্ষমতা আগের ১২ দিনের সংঘাতে প্রবেশের সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী ছিল।

তাঁর দাবি, সর্বশেষ যুদ্ধ ইরানের জন্য একটি কঠিন পরীক্ষা ছিল। সংঘাতে দেশটি প্রাণহানি ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হলেও একই সঙ্গে জাতীয় আত্মবিশ্বাসের শক্তিও প্রদর্শন করেছে।

তিনি বলেন, নিজ শক্তির ওপর দাঁড়ানো, তরুণ প্রজন্মের সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং জাতীয় ঐক্য বজায় রাখলে ইরানি জনগণ যেকোনো হুমকি মোকাবিলা করতে সক্ষম।

সাম্প্রতিক সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে ইরানের সামরিক সক্ষমতার উন্নতির দাবিও করেন ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সংঘাতে ইরান শত্রুপক্ষের ঘাঁটিতে প্রবেশ, আঞ্চলিক সামরিক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং আরও বেশি ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর সক্ষমতা বাড়িয়েছে।

একই সঙ্গে কৌশল ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও ইরানের সামরিক সক্ষমতায় নতুন কিছু বিস্ময়কর উপাদান যুক্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইবন আল-রেজা বলেন, ইরানের বর্তমান প্রতিরক্ষা শক্তি যুদ্ধকামী নীতির প্রতিফলন নয়। বরং এই সামরিক সক্ষমতার মূল উদ্দেশ্য হলো সম্ভাব্য যুদ্ধ ও আগ্রাসন প্রতিরোধ করা।

তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইরান কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরু করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তবে ইরানের ভূখণ্ড, স্বাধীনতা কিংবা নিরাপত্তার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে একই সঙ্গে আত্মরক্ষার নীতি এবং সামরিক প্রস্তুতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ তেহরানের অবস্থান অনুযায়ী, সামরিক শক্তি ব্যবহারের উদ্দেশ্য আগ্রাসন চালানো নয়; বরং সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে হামলা থেকে বিরত রাখা এবং প্রয়োজনে তার জবাব দেওয়ার সক্ষমতা বজায় রাখা। সূত্র: আলজাজিরা 

AS
আরও পড়ুন