যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া প্রতিটি পদক্ষেপ ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলার জন্য ইরানের আলাদা পরিকল্পনা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি। তার ভাষ্য, ওয়াশিংটনের নতুন করে অর্থনৈতিক যুদ্ধের ঘোষণা নিয়ে ইরানের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।
রোববার (২৩ আগস্ট) প্রকাশিত এক বক্তব্যে মোহেবি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই অর্থনৈতিক যুদ্ধের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করেছেন। তার দাবি, সামরিক ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরই যুক্তরাষ্ট্রকে এই পথে যেতে হয়েছে।
তিনি বলেন, সামরিক ক্ষেত্রে জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু করতে হতো না। তবে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধ নতুন কোনো বিষয় নয়। গত ৪৭ বছর ধরে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে চাপে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আইআরজিসির এই মুখপাত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান কৌশলের বড় অংশই হলো ইরানের জনগণের মধ্যে ভয় ও পরাজয়ের ধারণা তৈরি করা। মানুষ যেন বিশ্বাস করে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত জয়ী হবে—সেই মানসিকতা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তবে মোহেবি বলেন, শত্রুপক্ষের প্রতিটি পদক্ষেপের জন্য ইরানের প্রস্তুত পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থনৈতিক যুদ্ধও তার ব্যতিক্রম নয়। নিষেধাজ্ঞার ক্ষতিকর প্রভাব সামাল দেওয়া এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহজে অর্থনৈতিক সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়ার জন্য তেহরানের নিজস্ব কৌশল রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কোনো উদ্বেগ নেই উল্লেখ করে মোহেবি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নজর এড়িয়ে ইরান বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়েই এসব সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, এর ফল খুব শিগগিরই দেখা যাবে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জনগণকে বোঝাতে চাইছে যে তারা জয়ী হবে, কিন্তু বাস্তবে ইরান সেই চাপ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
মোহেবির বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক চাপ তৈরির ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা বারবার বলা হচ্ছে, নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় বিকল্প পথ তৈরি করেছে তারা। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি