ইসরায়েলি ড্রোন হামলার পর উত্তপ্ত পশ্চিম তীর, নিহত ৩

অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিনের কাছে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় ৩ ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পর ওই এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবারের (২৮ আগস্ট) এ হামলায় নিহতদের মধ্যে হামাসের এক সদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, নিহত কাইস বিতাওয়ি হামাসের একজন অপারেটিভ ছিলেন এবং ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার পরিকল্পনায় তিনি জড়িত ছিলেন। হামাস ও ইসলামিক জিহাদও বিতাওয়ির সংগঠন-সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়। হামলার পর ইসরায়েলি বাহিনী ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়।

ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্টের অভিযোগ, আহতদের উদ্ধারে যাওয়া চিকিৎসাকর্মীদের কিছু সময়ের জন্য আটক করা হয় এবং আহতদের কাছে পৌঁছানো ও মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার কাজে বাধা দেওয়া হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এ অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

পশ্চিম তীরে এ ধরনের বিমান হামলা তুলনামূলকভাবে বিরল। ফলে জেনিনের এই হামলাকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে চলমান সহিংসতার নতুন মাত্রা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, গ্রেপ্তার এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে।

হামলার পর জেনিনে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও কঠোর হয়ে উঠেছে। একই সময়ে গাজাতেও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতি ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্যেও ফিলিস্তিনের বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম তীরে সামরিক অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে জেনিন ও এর আশপাশের এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েলি বাহিনী ও ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্র।