পশ্চিম তীরে বেড়েই চলেছে শিশু হত্যা

গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি শিশু ও কিশোরদের হত্যার ঘটনা বেড়েছে। ইসরায়েলি মানবাধিকার সংগঠন বি’তসেলেমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ২৩৫ শিশু ও কিশোর নিহত হয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাবে নিহতের সংখ্যা ২৫০।

নিহতদের একজন দক্ষিণ পশ্চিম তীরের আল-রিহিয়া গ্রামের নয় বছর বয়সী মোহাম্মদ হাল্লাক। গত বছরের অক্টোবরে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে সে নিহত হয়। তার মা আলিয়া আল-হাল্লাক বলেন, ছেলেকে হারানোর বিষয়টি এখনো মেনে নিতে পারেননি তিনি।

আলিয়ার চাচা মোহাম্মদ হাল্লাক জানান, সেনাদের টহল দলের সঙ্গে কয়েকজন কিশোরের সংঘর্ষের সময় একটি গুলি মোহাম্মদের পেটে লাগে। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, আল-রিহিয়ায় দায়িত্ব পালনের সময় পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজনদের লক্ষ্য করে সেনারা গুলি চালিয়েছিল এবং তাতে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়।

বি’তসেলেমের হিসাবে, ২০০৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১৭ বছরে পশ্চিম তীরে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় একজন ফিলিস্তিনি শিশু বা কিশোর ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর সেই হার বেড়ে মাসে প্রায় সাতজনে দাঁড়িয়েছে।

সংগঠনটির তথ্য বলছে, শুধু ২০২৫ সালেই ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে ৫৪ ফিলিস্তিনি শিশু ও কিশোর নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী ছিল দুই বছরের শিশু। বেশির ভাগের বয়স ছিল ১৪ থেকে ১৭ বছর।

অনেক কিশোরকে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারাতে হয়েছে। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর কমান্ডার মেজর জেনারেল আভি ব্লুথের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় ৪২ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে সেনাবাহিনী। নিহতদের মধ্যে কতজন অপ্রাপ্তবয়স্ক, তা তিনি জানাননি।

তবে ছোট শিশুদের কয়েকটি মৃত্যুর ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীরা ইসরায়েলি সেনাদের নির্বিচারে গুলি চালানোর অভিযোগ করেছেন।

গত জুনে হেবরনে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে নিহত হয় সাত মাস বয়সী সাম আবু হাইকাল। সেনাদের গুলিতে শিশুটির মুখে গুলি লাগে। তার মা দানিয়া আবু হাইকালও আহত হন। গাড়িতে থাকা অবস্থায় সেনাদের গুলিতে তার গাল ভেদ করে গুলি কানের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়, তাদের এক সেনা ‘সম্পৃক্ত নয় এমন বেসামরিক নাগরিকদের’ লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল। সেনাবাহিনীর দাবি, গাড়িটি সেনাদের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার পর ওই সেনা গুলি চালান। তবে দানিয়া এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, গুলি চালানোর আগে তার স্বামী গাড়ি থামিয়ে দিয়েছিলেন।

সন্তান হারানো পরিবারগুলোর অনেকেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবিতে আইনজীবীর সহায়তা নিয়েছেন। দানিয়া বলেন, ইসরায়েলিদের হাতে ফিলিস্তিনিরা নিহত হলেও তারা ন্যায়বিচার পান না। তারপরও ন্যায়বিচারের আশা ছাড়তে চান না তিনি।

সূত্র: আরব নিউজ