সুইজারল্যান্ডে বন্দুক হামলায় নিহত ১, আহত ৫

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম

সুইজারল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলের আরাউ শহরে একটি রেভ পার্টিতে বন্দুক হামলায় ২২ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চার পুরুষ ও এক নারীসহ আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। হামলার পর সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ধরতে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

স্থানীয় সময় শনিবার রাত থেকে রোববার ভোর পর্যন্ত জুরিখের কাছাকাছি আরাউ শহরের একটি ঘোড়দৌড়ের মাঠে ওই রেভ পার্টি চলছিল। সেখানেই বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত নারী ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহতদের বয়স ২৪ থেকে ২৭ বছরের মধ্যে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের কারও আঘাত সামান্য, আবার কারও অবস্থা গুরুতর।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীর পরিচয় বা সম্ভাব্য উদ্দেশ্য এখনো জানা যায়নি। হামলার সঠিক পরিস্থিতিও স্পষ্ট নয়। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ২টা ৩০ মিনিটে পুলিশ হামলার খবর পায়।

ওই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করছিলেন সুইস ডিজে টেকিবো। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তিনি ঘটনাটিকে ‘হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ‘একজন গুরুত্বপূর্ণ বন্ধুকে হারিয়েছেন’ এবং কী ঘটেছে, তা এখনো সামলে ওঠার চেষ্টা করছেন।

হামলার পর ঘোড়দৌড়ের মাঠ, শহরের সুইমিং পুল ও ক্রীড়ামাঠসংলগ্ন এলাকা ঘিরে রেখেছে পুলিশ। জনসাধারণকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরগাউ ক্যান্টন পুলিশ জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আরাউয়ের বাইরেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এএফপির এক সাংবাদিকের ভাষ্য, ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের মহাসড়ক পর্যন্ত সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা গেছে।

জুরিখ থেকে প্রায় ৪৬ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত আরাউ শহরে প্রায় ২৩ হাজার মানুষের বসবাস। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে ছবি ও ভিডিও সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার ভোরে আরাউয়ের বিভিন্ন ছবিতে এলাকায় পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। একটি সাঁজোয়া যান দিয়ে রাস্তা আটকে রাখতে এবং সশস্ত্র পুলিশ ও দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের সরঞ্জাম নিয়ে সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।

সুইস সম্প্রচারমাধ্যম এসআরএফ জানিয়েছে, পুলিশ ও দমকল বাহিনীর পাশাপাশি আঞ্চলিক দুর্যোগ মোকাবিলা ইউনিট-এর সদস্যদেরও ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। ভোররাতে একটি সুইস সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারকে এলাকাটি পর্যবেক্ষণ করতেও দেখা গেছে।

ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় সুইজারল্যান্ডে ব্যক্তিগত আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকানার হার তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে দেশটিতে সহিংস বন্দুক হামলার ঘটনা বিরল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর বিধিনিষেধও চালু করা হয়েছে।

AM
আরও পড়ুন