ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধ ও মার্কিন চাপের পরও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতি স্বীকারের কোনো লক্ষণ দেখাচ্ছে না ইরান। বরং তেহরানের নেতৃত্বে সামরিক ও ধর্মীয় কট্টরপন্থীদের প্রভাব আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের প্রস্তুতির পাশাপাশি দেশের ভেতরের অসন্তোষ ও ভিন্নমত নিয়ন্ত্রণেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরুতে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটানোর আশা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু ছয় মাস পর ইরানের নতুন নেতৃত্ব সেই চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে বরং আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সময় দুবার হামলার শিকার হওয়ার পর তেহরানের নতুন নেতাদের মধ্যে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো চুক্তির ওপর আস্থা কমেছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নতুন সচিব মোহসেন রেজায়ি সম্প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নিলে ইরান ‘ভূমিকম্পসদৃশ’ জবাব দেবে। তিনি আরও বলেছেন, অর্থনৈতিক যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর থেকে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না।
কঠোরপন্থীদের হাতে ক্ষমতা আরও কেন্দ্রীভূত
সুপ্রিম নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি সম্প্রতি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ দিয়েছেন। এর মধ্যে রেজায়িকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের দায়িত্ব দেওয়া এবং কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতা হোসেইন তাইবকে বাসিজ বাহিনীর প্রধান করা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, এসব নিয়োগ সরকারের অভ্যন্তরে কঠোরপন্থীদের প্রভাব বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বাসিজ বাহিনী ইরানের স্বেচ্ছাসেবী আধাসামরিক সংগঠন, যা অতীতের বিক্ষোভ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তাইব এর আগে দীর্ঘ সময় ইরানের গোয়েন্দা সংস্থার নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং ২০০৯ সালের বিক্ষোভ দমনের সঙ্গেও তার নাম জড়িত। তাকে বাসিজের প্রধান করা হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বাড়ছে।
এদিকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমাদ ওয়াহিদিকে বিপ্লবী গার্ডের প্রধান হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। সামরিক বাহিনীর আরও কয়েকজন অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকেও গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করা এসব কর্মকর্তাকে শীর্ষ নেতৃত্বের কাছাকাছি এনে অভ্যন্তরীণ ঐক্য শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে।
অর্থনৈতিক চাপ বাড়লেও আপসের ইঙ্গিত কম
যুদ্ধ ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে। সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সক্ষমতাও কমছে। তারপরও এখন পর্যন্ত নতুন করে বড় কোনো গণবিক্ষোভ দেখা যায়নি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান অবশ্য যুদ্ধের অবসান ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার ঘনিষ্ঠরা মনে করছেন, অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করলে ইরান আরও বড় সমস্যায় পড়তে পারে। তবে ক্ষমতাধর কঠোরপন্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপনের বিরোধিতা করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের নেতৃত্বের সামনে এখন দুটি বড় চ্যালেঞ্জ একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা করা, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে রাখা। বর্তমান নিয়োগ ও নীতিগত অবস্থান থেকে স্পষ্ট হচ্ছে, তেহরান আপাতত আপসের চেয়ে প্রতিরোধ, সামরিক প্রস্তুতি এবং অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি হামলার নিন্দা জানালেন নেতানিয়াহু!
সুইজারল্যান্ডে বন্দুক হামলায় নিহত ১, আহত ৫
পাকিস্তানে হাসপাতালে আগুনের ঘটনায় ৮ কর্মকর্তা বরখাস্ত