অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর অভিযান চালিয়ে সাংবাদিকসহ ২১ ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভোরে বেথলেহেম, নাবলুস, সালফিত ও হেবরন প্রদেশে এসব অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক মিডিয়া অফিস।
সংস্থাটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বেথলেহেমের সাতজন, নাবলুসের নয়জন, সালফিতের চারজন এবং হেবরনের একজন সাংবাদিক রয়েছেন। বেথলেহেমের বেইত ফাজার এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে একই পরিবারের বাবা ও তাঁর দুই ছেলেকেও আটক করা হয়েছে।
নাবলুসের বিভিন্ন এলাকাতেও চালানো হয় একাধিক অভিযান। আসিরা আল-কিবলিয়া গ্রাম থেকে দুজন এবং আসকার শরণার্থী শিবির থেকে একজনকে আটক করা হয়। আওরিফ, বাজরিয়া ও আশপাশের আরও কয়েকটি এলাকাতেও কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক মিডিয়া অফিস।
এদিকে সেবাস্তিয়া এলাকায় এক ফিলিস্তিনি বন্দির মা ও বোনকেও আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সালফিত প্রদেশের কারাওয়াত বানি হাসান এলাকায় চারজনকে আটকের পাশাপাশি তাদের বাড়িঘরে তল্লাশি চালানো এবং একটি গাড়ি জব্দ করার অভিযোগও উঠেছে ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে।
হেবরন প্রদেশের ইদনা শহর থেকে একজন সাংবাদিককে আটকের তথ্য দিয়েছে ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক মিডিয়া অফিস। তবে একই দিনে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, ইদনায় পৃথক অভিযানে প্রায় ৩০ ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে আটক ব্যক্তির সংখ্যা নিয়ে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।
ফিলিস্তিনি বন্দি বিষয়ক মিডিয়া অফিসের অভিযোগ, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর গ্রেপ্তার ও তল্লাশি অভিযান সাম্প্রতিক সময়ে আরও জোরদার হয়েছে। এসব অভিযানে সাংবাদিক, সাবেক বন্দি এবং আটক ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।
এদিকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান ও ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বুধবার আল-মুঘাইয়ির গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ১৬ ও ১৯ বছর বয়সী দুই ফিলিস্তিনি কিশোর নিহত হওয়ার ঘটনাও পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, পাথর নিক্ষেপসহ একটি সহিংস গোলযোগে জড়িত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।
গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, গ্রেপ্তার, বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও ভূমি দখলকে কেন্দ্র করে ফিলিস্তিনি-ইসরায়েলি উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই নতুন করে ২১ ফিলিস্তিনিকে আটকের ঘটনা অঞ্চলটির পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।