মার্কিন অর্থনৈতিক চাপে নীতি বদলাবে না ইরান: অর্থমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ দিয়ে ইরানের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা যাবে, এমন ধারণা ভুল বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহ। তিনি বলেছেন, ইরানের অর্থনীতি কীভাবে সংস্কার করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত ওয়াশিংটনের নয়; এ দায়িত্ব ইরান সরকার ও জনগণের।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও তেহরান নিজেদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেছেন মাদানিজাদেহ।

ইরানের অর্থমন্ত্রী বলেন, মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের চাপ দিয়ে দেশটির শাসনব্যবস্থার সিদ্ধান্ত জোর করে পরিবর্তন করা সম্ভব, এমন ধারণা একটি ভুল। ইরানের অর্থনীতির সংস্কার ও পরিচালনার দায়িত্ব ইরানের সরকার এবং জনগণের ওপরই রয়েছে।

মাদানিজাদেহের ভাষ্য, বছরের পর বছর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে থেকেও ইরানের লাখো কর্মী অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকার নতুন পথ তৈরি করেছেন। এর ফলে নিষেধাজ্ঞার চাপ সত্ত্বেও দেশের আমদানি, রপ্তানি ও উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, ইরানের অর্থনীতি পরিচালনার মূল লক্ষ্য দেশটির জনগণের জীবন ও কল্যাণ নিশ্চিত করা। তাই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অর্থনৈতিক নীতি কী হবে, তা নির্ধারণ করে দিতে পারে না।

ইরানের অর্থমন্ত্রীর এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি, বাণিজ্য ও বৈদেশিক লেনদেনের ওপর চাপ বেড়েছে।

তবে তেহরানের অবস্থান হলো, দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার অভিজ্ঞতা দেশটির অর্থনীতিকে বিকল্প বাণিজ্যপথ ও অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার ওপর বেশি নির্ভরশীল করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় মার্কিন অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও নিজেদের নীতিগত সিদ্ধান্তে পরিবর্তন না আনার বার্তা দিলেন মাদানিজাদেহ। সূত্র: আলজাজিরা