লন্ডনে মোজতবা খামেনির দুটি বিলাসবহুল পেন্টহাউস নিলামে

আপডেট : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪০ পিএম

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লন্ডনের দুটি বিলাসবহুল পেন্টহাউস বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সানডে টাইমস। ২০১৪ ও ২০১৬ সালে মোট ৩ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডে কেনা এই দুই সম্পত্তির মালিক হিসেবে ইরানি ব্যাংকার আলি আনসারির নাম রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, লন্ডনের অভিজাত প্যালেস গ্রিন এলাকায় ৩এ প্যালেস গ্রিন নামের ভবনে পেন্টহাউস দুটি অবস্থিত। ভবনটি কেনসিংটন প্যালেসের দিকে মুখ করে রয়েছে এবং প্রিন্স ও প্রিন্সেস অব ওয়েলসের সরকারি লন্ডন বাসভবনের কাছাকাছি।

এর মধ্যে একটি পাঁচ শয়নকক্ষের ডুপ্লেক্স পেন্টহাউস। ষষ্ঠ ও সপ্তম তলাজুড়ে থাকা ৩ হাজার ৯৪৪ বর্গফুটের এই অ্যাপার্টমেন্টটি ২০১৬ সালে ১ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ডে কেনা হয়েছিল। বর্তমানে এর দাম ১ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের কিছু কম চাওয়া হচ্ছে।

নাইট ফ্র্যাঙ্ক ও সোথেবিজ ইন্টারন্যাশনাল রিয়েলটির মাধ্যমে সম্পত্তিটি বিক্রির জন্য বাজারজাত করা হচ্ছে। এতে কর্মীদের থাকার আলাদা ব্যবস্থা এবং ব্যক্তিগত ছাদবাগান রয়েছে।

তবে বিক্রির বিজ্ঞাপনে সম্পত্তিটির রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর মালিকানা বা সংশ্লিষ্টতার কথা উল্লেখ করা হয়নি। বরং সম্পত্তিটি রিসিভারশিপে থাকায় এর সব তথ্য পাওয়া যায়নি এবং সম্ভাব্য ক্রেতাদের প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান করে নিতে বলা হয়েছে।

দ্বিতীয় পেন্টহাউসটি একই ভবনের সপ্তম ও অষ্টম তলায় অবস্থিত। ২০১৪ সালে এটি ১ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডে কেনা হয়েছিল। সম্পত্তিটিও বর্তমানে রিসিভারশিপে রয়েছে। ল্যান্ড রেজিস্ট্রির নথি অনুযায়ী, আর্থিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান টেনিওকে এর রিসিভার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে এটি এখনো প্রকাশ্যে বিক্রির তালিকায় না থাকায় এর বর্তমান চাওয়া দাম জানা যায়নি।

দ্য সানডে টাইমস জানিয়েছে, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য ক্রেতা সম্পত্তি দুটি দেখতে গেছেন এবং এতে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

নথি অনুযায়ী, দুই পেন্টহাউসের নিবন্ধিত মালিক ইরানি ব্যাংকার আলি আনসারি। চলতি বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় তাকে খামেনির প্রধান অর্থায়নকারীদের একজন হিসেবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, আনসারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও দেশটির অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তার সুবিধার্থে পরিচালিত বিস্তৃত বৈশ্বিক সম্পদ নেটওয়ার্কের তত্ত্বাবধান করেন।

এর আগে ব্রিটিশ সরকারও আনসারির বিরুদ্ধে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে অর্থায়নের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞা দেয়। যুক্তরাজ্যে তার সম্পদ জব্দ করা হয় এবং দেশটিতে প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। তবে আনসারি কোন অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

আনসারি বন্ধকী ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার পর ব্রিটিশ সরকারের অনুমোদনে পেন্টহাউস দুটি বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য সানডে টাইমস। সম্পত্তি কেনার জন্য অর্থায়নকারী বেসরকারি ঋণদাতারা নিজেদের অর্থ ফেরত পেতে রিসিভার নিয়োগ করেন।

ঋণদাতাদের পাওনা পরিশোধের পর সম্পত্তি বিক্রি থেকে অবশিষ্ট অর্থ আনসারি নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকায় জব্দ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্যালেস গ্রিনের ওই আবাসন প্রকল্পের কর্মীরা সম্পত্তি দুটি কেনার পর থেকে খামেনি বা আনসারি কাউকেই সেখানে দেখেননি। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

এএস
আরও পড়ুন