মধ্যপ্রাচ্যে চলমান আঞ্চলিক সামরিক সংঘাতের প্রভাব থেকে নিজেদের প্রধান রাষ্ট্রীয় আয়ের উৎসকে বাঁচাতে অপরিশোধিত তেল রপ্তানির বিকল্প পথ খোঁজার জোর তৎপরতা শুরু করেছে ইরাক। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে এড়িয়ে কীভাবে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রাখা যায়, সে লক্ষ্যে কাজ করছে বাগদাদ সরকার।
ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর জ্যেষ্ঠ আর্থিক উপদেষ্টা মাজহার মুহাম্মদ সালিহ দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা 'ইরাকি নিউজ এজেন্সি' (ইনা)-কে জানায়, সরকার এখন কেবল আঞ্চলিক সংকটের প্রভাব কমানোর নীতিতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং সংকটটি সরাসরি মোকাবিলার জন্য কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
সালিহ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, পাইপলাইন নির্মাণ এবং বিকল্প পরিবহন রুট খুঁজে বের করার বিষয়টি রাষ্ট্রের মূল কৌশলের অংশ, যার লক্ষ্য হলো ইরাকের জাতীয় তেল নীতি ও আন্তর্জাতিক বাজারজাতকরণকে যেকোনো ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের প্রভাব থেকে নিরাপদ ও দূরে রাখা।
তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে ইরাক প্রতিবেশী দেশগুলোর ট্রানজিট রুট ব্যবহার করতে বাধ্য হবে।
উল্লেখ্য, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংঘাত মারাত্মক রূপ নেওয়ার আগে ইরাক প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩৪ লাখ (৩.৪ মিলিয়ন) ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করত, যার প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশই সরাসরি হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।
বাগদাদ সরকারের বর্তমান প্রধান অগ্রাধিকার হলো যেকোনো বিকল্প চ্যানেল ব্যবহার করে পূর্বের সমপরিমাণ তেল রপ্তানি নিশ্চিত করা।
সূত্র: আল-জাজিরা