প্রতিরক্ষা ও আকাশ প্রতিরক্ষার পর্যায় পেরিয়ে ইরান এখন দ্রুতগতির আক্রমণাত্মক অভিযানের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর তেহরান শাখার কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান হাসানজাদেহ।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিশেষ অভিযান দলের এক মহড়ায় তিনি বলেন, ইরান এখন প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে বেরিয়ে আক্রমণাত্মক অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছে। তার দাবি, এটি এমন এক পরিবর্তন যার প্রভাব শত্রুরা খুব শিগগিরই বুঝতে পারবে।
হাসানজাদেহ বলেন, ১২ দিনের যুদ্ধের শুরুতে যারা কয়েক দিনের মধ্যেই ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন হবে বলে দাবি করেছিল, তারাই এখন পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির সীমিত ভৌগোলিক এলাকায় আটকা পড়েছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড ও ইরানের নৌ ও মহাকাশ বাহিনীর শক্তিশালী অবস্থানের কারণে তারা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইরানি এই কমান্ডার বলেন, যুদ্ধে বিজয় কেবল সামরিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে না। দৃঢ় বিশ্বাস, বিজয়ের প্রত্যয় এবং প্রতিরোধের আদর্শ অনুসরণই যুদ্ধের ফল নির্ধারণ করে। তার দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র, চালকবিহীন আকাশযান ও নৌ প্রযুক্তিতে ইরান এমন সক্ষমতায় পৌঁছেছে, যা শত্রুর লক্ষ্য অর্জন ঠেকিয়ে দিয়েছে।
হাসানজাদেহ জানান, দ্রুতগতির বিশেষ অভিযান পরিচালনার জন্য আক্রমণাত্মক দল, ইউনিট ও ডিভিশন প্রস্তুত করা হয়েছে। দেশের যেকোনো স্থানে দ্রুত পৌঁছে যেকোনো পরিস্থিতিতে শত্রুকে ধ্বংস করার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ইরানের প্রতিরোধ ও স্থিতিস্থাপকতা দেশটির প্রতিপক্ষকে নত হতে বাধ্য করেছে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ইরানি জনগণের ব্যাপক ও সংগঠিত উপস্থিতি বিশ্ব প্রত্যক্ষ করবে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে মসজিদ, বিভিন্ন চত্বর, কার্যালয় ও পাড়া-মহল্লা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ ওই কর্মসূচিতে নিবন্ধন করেছেন।
ইরানের এই কমান্ডার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নাম উল্লেখ করে বলেন, তারা নিজেদের জনগণ ও রাজনৈতিক-সামরিক অভিজাতদের কাছে নিজেদের দাবির জবাব দিতে পারছেন না। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ধ্বংস করা হয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি থাকলেও বাস্তবে ইরানের সামরিক বাহিনী আগের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
হরমুজ প্রণালি দখলের চেষ্টা করা হয়েছিল দাবি করে হাসানজাদেহ বলেন, এখন এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি নৌপথের নিয়ন্ত্রণ ইরানি জনগণের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।
তার দাবি, ইসলামি ইরান এখন প্রতিরোধ অক্ষের অন্যতম কেন্দ্র এবং বৈশ্বিক সমীকরণ নির্ধারণকারী চার শক্তির একটি হিসেবে বিশ্বে স্বীকৃতি পেয়েছে। হরমুজ প্রণালি, জনপ্রতিরোধ বাহিনী এবং ইরানি যোদ্ধাদের পূর্ণ প্রস্তুতিকে তিনি দেশের প্রধান শক্তির উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেন। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি