মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে অস্থিরতা ছড়ানোর পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়ে ইরান ‘দ্বিমুখী খেলা’ খেলছে বলে আশঙ্কা করছে উপসাগরীয় দেশগুলো। হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের জননীতি বিভাগের অধ্যাপক সুলতান বারাকাত এমন মন্তব্য করেছেন।
আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বারাকাত বলেন, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো জানে, তারা সরাসরি কোনো সংঘাতে জড়িত না থাকলেও ইরানের মিত্র হিসেবে কাজ করা কিছু গোষ্ঠীর ওপর তাদের প্রভাব বা কর্তৃত্ব রয়েছে। ইরাক কিংবা ইয়েমেনে সক্রিয় এসব পক্ষকে উত্তেজনা কমানোর জন্য চাপ দেওয়ার সুযোগ তাদের ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তাঁর মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ আরও বেড়েছে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর সময়ের কারণে। ওমানে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ইরানের একটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ইয়েমেন ও সৌদি আরবে কয়েক দিন ধরে হুথিদের হামলার পর সেই বৈঠক বাতিল হয়ে যায়।
বারাকাত বলেন, হুথিরা হঠাৎ করে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের দিকে অগ্রসর হয়ে লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের জন্য হুমকি তৈরি করেছে। এই ঘটনাপ্রবাহ সৌদি আরবের কাছে এমন ধারণা তৈরি করতে পারে যে, ইরান একই সময়ে ভিন্ন দুটি পথে এগোচ্ছে।
একদিকে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে সম্মিলিত নিরাপত্তা নিয়ে মুখোমুখি আলোচনায় বসার আহ্বান জানাচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে একই দেশগুলোর ওপর পরোক্ষ চাপ অব্যাহত রাখছে, এমনটাই মনে করছেন বারাকাত।
তাঁর ভাষায়, শান্তি ও সম্মিলিত নিরাপত্তার আলোচনার আহ্বানের পাশাপাশি মিত্রদের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগের এই দ্বৈত অবস্থানই উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ইরানকে নিয়ে সন্দেহ আরও গভীর করছে। সূত্র: আলজাজিরা