এক সপ্তাহের মধ্যে ইরানে আরও এক সুন্নি আলেম নিহত

ইরানে এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে আরও এক সুন্নি ধর্মীয় নেতা নিহত হয়েছেন। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় জাহেদান শহরে নিজ বাড়ির বাইরে অজ্ঞাত হামলাকারীদের গুলিতে সুন্নি বালুচ আলেম মোলাভি ইউসুফ গোরগিজ নিহত হন।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহর গোরগিজকে সরকারপন্থি সুন্নি আলেম হিসেবে উল্লেখ করে তার হত্যার জন্য কথিত ইসরায়েলি ভাড়াটে যোদ্ধাদের দায়ী করেছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ বা হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। জাহেদানের গভর্নর রখশানি-নাসাব বলেন, গোরগিজ বিভেদ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী ও ইসরায়েলের বিরোধিতায় সক্রিয় ছিলেন।

এদিকে স্থানীয় কয়েকটি ইরানি সংবাদমাধ্যম হামলাটির জন্য সুন্নি বালুচ সশস্ত্র গোষ্ঠী জইশ আল-আদলকে দায়ী করেছে। তবে হামলার দায় স্বীকার করে গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

গোরগিজ হত্যার আগে সপ্তাহান্তে ইরানের অশান্ত দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। শনিবার সারাভানের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী ও অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। বালুচ অধিকার সংগঠন হালভাশের দাবি, সামরিক যানবাহনে হামলা চালানো হয় এবং কয়েক ডজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত বা আহত হন। রোববার রাতেও সেখানে গোলাগুলি চলেছে বলে সংগঠনটি জানায়।

এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশে সুন্নি কুর্দি আলেম মামোস্তা মোহাম্মদ নেজাতি নিহত হন। ওই হত্যাকাণ্ডের জন্য ইরানের বিপ্লবী গার্ড কথিত ইসরায়েলি-মার্কিন কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করে। নেজাতির বাসিজ সংগঠনের সঙ্গে সহযোগিতার ইতিহাস ছিল বলেও দাবি করে বিপ্লবী গার্ড।

চলতি বছরের জুলাইয়ে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সীমান্তবর্তী মিরজাভেহ শহরে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের হামলায় সুন্নি বালুচ জুমার নামাজের ইমাম মোলাভি মোহাম্মদ আনোয়ার রিগিও নিহত হন। ফলে কয়েক মাসের মধ্যে ইরানে একাধিক সুন্নি ধর্মীয় নেতাকে লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল