ইরানের জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও দেশের প্রতি মানুষের আনুগত্যের প্রতীক হিসেবে ‘ইরানের জন্য আত্মত্যাগ’ সমাবেশের প্রশংসা করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে তেহরানে আয়োজিত বিশাল এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ ইরানের জনগণের সঙ্গে তাদের মাতৃভূমির গভীর বন্ধনের স্পষ্ট প্রকাশ।
পেজেশকিয়ান বলেন, দেশের মর্যাদা, স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও শক্তি রক্ষায় ইরানের জনগণের সম্মিলিত অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে এই সমাবেশে। দায়িত্বশীল ও সচেতনভাবে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি জনগণকে ধন্যবাদ জানান।
ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, জনগণের এই অংশগ্রহণ জাতীয় দায়িত্ববোধ এবং মাতৃভূমির প্রতি তাদের গভীর অনুরাগের বহিঃপ্রকাশ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান সব ইরানির। দেশের মর্যাদা ও গৌরব অক্ষুণ্ন রাখতে ঐক্য, সংহতি এবং ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা প্রয়োজন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে তেহরানে শুরু হওয়া ‘জানফাদা-য়ে ইরান’ বা ‘ইরানের জন্য আত্মত্যাগ’ সমাবেশে লাখো মানুষ অংশ নেন। এতে নারী, তরুণসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ অংশ নেন। একই সময়ে ইরানের বিভিন্ন শহরেও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
তেহরানের কর্মসূচিতে প্রায় ৩ লাখ ১৩ হাজার মানুষের অংশগ্রহণ ছিল। ইমাম হোসেইন চত্বর থেকে এনকেলাব চত্বর পর্যন্ত বিস্তৃত এই আয়োজনে ইরানের ড্রোনের সক্ষমতা প্রদর্শনের পাশাপাশি পবিত্র প্রতিরক্ষা যুদ্ধে অংশ নেওয়া প্রবীণদেরও উপস্থিতি ছিল। নারী ও তরুণদের জন্য পৃথক অংশ রাখা হয়। অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ ইরানের প্রতিরক্ষায় আত্মত্যাগের প্রস্তুতির প্রতীক হিসেবে কাফনের কাপড় পরেও সমাবেশে অংশ নেন।
বৃহত্তর তেহরান ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল হাসানজাদে জানান, তেহরানে কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রায় ৫ লাখ মানুষ নিবন্ধন করেছিলেন। ইসলামী ঐতিহ্যে ৩১৩ সংখ্যাটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত বদরের যুদ্ধের সঙ্গে এই সংখ্যাটি সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী আগ্রাসনের পর গত ২৯ মার্চ ‘ইরানের জন্য আত্মত্যাগ’ প্রচারাভিযান শুরু হয়। আয়োজকদের দাবি, এরপর এটি দেশব্যাপী গণসংহতির কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ৩ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ এতে অংশ নিয়েছেন। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি