ইরানে মার্কিন হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে দেওয়া অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে হোয়াইট হাউস। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের তদন্তে ইরানের দুটি স্থাপনায় ২৮ ফেব্রুয়ারির মার্কিন হামলার ঘটনায় যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ পাওয়ার কথা বলা হলেও ওয়াশিংটন তা অস্বীকার করেছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, কয়েক দশক ধরে মানবাধিকার নিয়ে ‘অসার কথাবার্তা’ ছাড়া এই পরিষদ মানবাধিকারের জন্য কিছুই অর্জন করতে পারেনি। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট-এ প্রকাশিত তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে যুদ্ধাপরাধ করেছে একমাত্র ইরানি সরকার।
জাতিসংঘের ইরানবিষয়ক স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্য-অনুসন্ধান মিশনের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের একটি স্কুল ও একটি ক্রীড়া স্থাপনায় মার্কিন বাহিনীর হামলার পেছনে থাকার ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ রয়েছে। তদন্তকারীরা এসব হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
প্রতিবেদনটির সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা। ইরানি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে প্রায় ১২০ জন ছিল স্কুলশিক্ষার্থী। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেন, বিদ্যালয়টি স্পষ্টভাবে একটি বেসামরিক স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিতযোগ্য ছিল এবং এটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল, এমন কোনো প্রমাণ তারা পাননি।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়টি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর একটি নৌ স্থাপনার পাশে থাকলেও মার্কিন বাহিনী তাদের লক্ষ্য নির্ধারণের তথ্যভান্ডারে বিদ্যালয়টির অবস্থান হালনাগাদ করেনি। একই সঙ্গে স্থাপনাটি সামরিক লক্ষ্য কি না, সেটিও যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তদন্তকারীদের মতে, এটি শুধু অবহেলার ঘটনা ছিল না; বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানার যথেষ্ট ঝুঁকি সম্পর্কে জেনেও হামলা চালানো হয়েছিল।
মিনাবের পাশাপাশি লামার্দ শহরের একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে হামলার ঘটনাও তদন্ত করে জাতিসংঘের মিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হামলায় আশপাশের আবাসিক ভবন ও একটি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ২২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত বা আহত হন। তদন্তকারীরা হামলাটিকেও নির্বিচার হামলা হিসেবে উল্লেখ করে যুদ্ধাপরাধের আওতায় পড়ার কথা বলেছেন।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিনাবের স্কুলে হামলার বিষয়ে বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে কেউ মেয়েদের ওই স্কুলে হামলা চালায়নি। মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ একটি প্রাথমিক তদন্তেও হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী দায়ী হওয়ার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছিল বলে রয়টার্স জানিয়েছিল। পরে পেন্টাগন তদন্তটি আরও উচ্চপর্যায়ে নেয়। তবে এখনো সেই তদন্তের কোনো প্রাথমিক ফল প্রকাশ করা হয়নি।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনের বিপরীতে মার্কিন কর্মকর্তারা আগে বলে আসছেন, ইরানে পরিচালিত সামরিক অভিযানগুলো যুদ্ধ পরিচালনার আন্তর্জাতিক আইন মেনেই করা হয়েছে। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউসের বক্তব্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ কেবল ইরানি সরকারের বিরুদ্ধেই প্রযোজ্য। ফলে মিনাব ও লামার্দের হামলা নিয়ে জাতিসংঘের তদন্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট বিরোধ দেখা দিয়েছে। সূত্র: ডন
‘দেশের জন্য আত্মত্যাগ’ মিছিলে ৩ লাখ ইরানি!
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসিক এলাকায় বিধ্বস্ত এফ-১৬ যুদ্ধবিমান
মহাকাশেও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন সেনা!