হরমুজে দুই মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানি বাহিনী অন্তত দুটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেওয়া তাদের বক্তব্যে ইরানি সংবাদমাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন একটি ড্রোন ভূপাতিতের পৃথক প্রতিবেদনেরও পরোক্ষ সত্যতা মিলেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা অন্তত দুটি চালকবিহীন উড়োজাহাজ হারানোর কথা স্বীকার করলেও ড্রোনগুলো ঠিক কোথায় ভূপাতিত হয়েছে এবং এগুলো এমকিউ-১-এর কোন সংস্করণ ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয় বলে দাবি করেছেন।

এর আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ইরানি সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, হরমুজ প্রণালির আকাশে একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে ইরানি বাহিনী। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ ও ইরানের ভূখণ্ডের কাছাকাছি এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের চালকবিহীন উড়োজাহাজ পরিচালনার ঝুঁকিও এতে স্পষ্ট হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযানের মধ্যে সাম্প্রতিক এই ড্রোন হারানোর ঘটনা মার্কিন চালকবিহীন উড়োজাহাজের ক্ষয়ক্ষতির তালিকাকে আরও দীর্ঘ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী নজরদারি কার্যক্রমে এমকিউ-১ প্রিডেটর এবং এর বড় সংস্করণ এমকিউ-১ থেকে তৈরি গ্রে ঈগল ব্যবহার করে। এগুলো হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র বহনেও সক্ষম।

ভূপাতিত ড্রোনগুলো যদি গ্রে ঈগল হয়ে থাকে, তাহলে প্রতিটির ধ্বংসে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েক কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭২ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, এ পর্যন্ত অন্তত ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে। এর পাশাপাশি একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ধ্বংস হওয়ায় আরও আনুমানিক ১৫ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বারবার ব্যয়বহুল মার্কিন চালকবিহীন উড়োজাহাজ ধ্বংস হওয়ার ঘটনা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা তুলে ধরছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কমান্ড সেন্ট্রাল কমান্ড বৃহস্পতিবার সিবিএস নিউজের কাছে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি