বিশ্বকে সার্বভৌম দেশগুলোর সমষ্টি হিসেবে নয়, বরং একটি মৌচাক হিসেবে দেখে যুক্তরাষ্ট্র, এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তার অভিযোগ, ওয়াশিংটন এখনো ধরে নেয়, বিশ্বের দেশগুলোর কোনো স্মৃতি বা সমালোচনামূলক চিন্তার সক্ষমতা নেই; ফলে যুক্তরাষ্ট্র যা বলে, অন্যরা তা কোনো প্রশ্ন ছাড়াই মেনে নেবে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইসমাইল বাঘাই বলেন, ওয়াশিংটনের ধারণা এখনো এমন যে বিশ্বের দেশগুলোর না আছে অতীত মনে রাখার ক্ষমতা, না আছে কোনো বিষয়কে সমালোচনামূলকভাবে বিচার করার সক্ষমতা। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকে এমনভাবে দেখে যেন এটি ‘প্লুরিবাস’-এর একটি মৌচাক, যেখানে সবাইকে নিজেদের চিন্তা বন্ধ করে দিতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রের কথার দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে এবং দেশটির প্রচারিত বয়ান সম্পূর্ণভাবে গিলে ফেলতে হবে।
‘প্লুরিবাস’ নামটি ২০২৫ সালে প্রচারিত একটি মার্কিন ধ্বংসোত্তর কল্পবিজ্ঞান টেলিভিশন ধারাবাহিকের প্রসঙ্গে ব্যবহার করেছেন বাঘাই। এই উদাহরণ টেনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করেন।
ইরানি মুখপাত্র আরও বলেন, একদিকে ইরানের প্রতিটি নাগরিকের ওপর সর্বোচ্চ মাত্রার কষ্ট ও দুর্ভোগ চাপিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানি কর্মকর্তারা নাকি যুক্তরাষ্ট্রের একটি পাইকারি পণ্য বিক্রয় প্রতিষ্ঠানের সদস্যপদ ব্যবহার করে কেনাকাটা করেন, এমন অভিযোগ তুলে তা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে।
বাঘাই বলেন, একটি পুরো দেশের মানুষের জীবিকা লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে একটি দোকানের সদস্যপদ কার্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ঘোষণা করা হচ্ছে। তার মতে, এই দুই ধরনের পদক্ষেপের মধ্যে বড় ধরনের বৈপরীত্য রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও অভিযোগ করেন, এই ধরনের প্রচার এতটাই সরল ও দুর্বল যে এর মধ্য দিয়ে সেই মানসিকতার অজ্ঞতাই প্রকাশ পায়, যে মানসিকতা ইরানের বিরুদ্ধে বেআইনি ও ইচ্ছাকৃত যুদ্ধ শুরু করেছিল। তার দাবি, এর ফলেই যুক্তরাষ্ট্র আজ যে বিব্রতকর অবস্থানে রয়েছে, সেখানে এসে পৌঁছেছে।
বাঘাইের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং ওয়াশিংটনের প্রচারিত বয়ানের মধ্যে বৈপরীত্য রয়েছে, এমন একটি অভিযোগই মূলত উঠে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নীতির প্রতি অন্য দেশগুলো কোনো প্রশ্ন ছাড়াই অনুসরণ করবে, ওয়াশিংটনের এমন ধারণারও সমালোচনা করেছেন। সূত্র: ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি