নিউইয়র্কে ইরানি কর্মকর্তাদের কেনাকাটায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বাঘাইয়ের ব্যঙ্গ

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়া ইরানি প্রতিনিধিদের বিলাসপণ্য কেনা ও পাইকারি পণ্যের দোকানের সদস্যপদ নেওয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ব্যঙ্গ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেন, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র পুরো ইরানি জনগণের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালাচ্ছে, অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তাদের একটি দোকানের সদস্যপদ নেওয়া ঠেকানোর বিষয়টি বড় করে তুলে ধরছে ওয়াশিংটন।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বাঘাই বলেন, ওয়াশিংটন এখনো মনে করে বিশ্বের দেশগুলোর মানুষের নিজেদের স্মৃতি ও সমালোচনামূলক চিন্তার সক্ষমতা নেই। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র এমনভাবে বিশ্বকে দেখে যেন এটি একটি সমষ্টিগত ব্যবস্থা, যেখানে সবাইকে নিজেদের চিন্তা বন্ধ করে শুধু ওয়াশিংটনের বক্তব্য শুনতে এবং তার প্রচারিত বয়ান মেনে নিতে হবে।

বাঘাই বলেন, একদিকে রয়েছে এমন একটি নির্মম অর্থনৈতিক যুদ্ধ, যা ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের প্রতিটি নাগরিকের ওপর সর্বোচ্চ চাপ ও দুর্ভোগ তৈরির জন্য পরিচালিত হচ্ছে। অন্যদিকে ইরানি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি পাইকারি পণ্যের দোকানে কেনাকাটা করতে পারবেন না, এমন পদক্ষেপকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে সামনে আনা হচ্ছে।

ইরানি মুখপাত্র আরও বলেন, একটি পুরো দেশের জীবিকা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন একটি দোকানের সদস্যপদ নিষিদ্ধ করার বিষয় নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিচ্ছে। তার মতে, এই প্রচারণা এতটাই দুর্বল ও অপরিণত যে এর মাধ্যমে এমন একটি মানসিকতার পরিচয় প্রকাশ পাচ্ছে, যেখান থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাঘাইর এই মন্তব্যের আগে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ইরানি একটি প্রতিনিধিদল আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার অনুমতি পাবে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিনিধিদলের আকার ছোট হবে বলে জানানো হয়।

একই সময়ে ইরানি প্রতিনিধিদের ওপর চলাচলের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতাসহ আরও কিছু বিধিনিষেধ ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বিলাসপণ্য কেনা এবং পাইকারি পণ্যের দোকানের সদস্যপদ নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এ ধরনের বিধিনিষেধ বহু বছর ধরেই চালু রয়েছে এবং রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশের কূটনীতিকদের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হয়েছে। সূত্র: সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি

এএস
আরও পড়ুন