'শত্রুকে অপমান ও লজ্জা নিয়ে অঞ্চল ছাড়তে হবে' 

পরাজিত শত্রুকে অপমান ও লজ্জা নিয়ে অঞ্চল ছাড়তে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সেনাবাহিনীর সমন্বয়বিষয়ক উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল হাবিবুল্লাহ সাইয়ারি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কাছে পরাজিত হওয়ার পর শত্রুদের অঞ্চল থেকে চলে যেতে হবে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ইরানের সেনাবাহিনীর নন-কমিশনড কর্মকর্তাদের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় সাইয়ারি এ মন্তব্য করেন। পবিত্র প্রতিরক্ষা সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ইরান-ইরাক যুদ্ধের আট বছরেও শত্রুরা নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। সাম্প্রতিক দুটি যুদ্ধেও তারা শুধু নিজেদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়নি, বরং ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে অপমান ও লজ্জার মুখে পড়েছে।

সাইয়ারি বলেন, আগ্রাসীদের বিরুদ্ধে বিজয় অর্জনের পেছনে শহীদদের পথ এবং ইসলামি বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনার ভূমিকা রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় সেনাবাহিনীর নতুন সদস্যদের ওপর বড় দায়িত্ব রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ইরাকের বাথবাদী সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রাণ ও দেহ উৎসর্গ করা শহীদদের পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সাইয়ারি বলেন, ইরানের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা দুর্বল করাই ছিল শত্রুর লক্ষ্য। তবে ইরানের জনগণের ঐক্যের কারণে সেই লক্ষ্য পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

শহীদদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারাই বিপদের সামনে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছিলেন। পবিত্র প্রতিরক্ষার আট বছর এবং পরবর্তী চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধগুলোতেও তারা সাহসের সঙ্গে প্রতিরোধ করেছেন এবং শত্রুর কাছে মাথা নত করেননি বলে প্রশংসা করেন সাইয়ারি।

সেনাবাহিনীর নন-কমিশনড কর্মকর্তা হিসেবে নতুন পদমর্যাদা পাওয়া ক্যাডেটদের উদ্দেশে সাইয়ারি বলেন, তাদের দায়িত্ব তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল, দেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা, দেশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পবিত্র ব্যবস্থা সংরক্ষণ।

তিনি তরুণ ক্যাডেটদের গত ৪৮ বছর ধরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবের পর এসব দায়িত্ব সফলভাবে পালন করা ব্যক্তিদের পথ অনুসরণ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জ্ঞান, দক্ষতা, কারিগরি সক্ষমতা, বিশ্বাস, ধার্মিকতা, সাহস, উদ্যোগ ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করার পরামর্শ দেন।

পবিত্র প্রতিরক্ষার সময় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন দায়িত্বের কথা স্মরণ করে সাইয়ারি বলেন, যুদ্ধের কৌশল ক্রমাগত পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবর্তনের সঙ্গে গোয়েন্দা কার্যক্রম, যোগাযোগব্যবস্থা, অস্ত্র ও গোলাবারুদের ক্ষেত্রেও অগ্রগতি প্রয়োজন।

সেনাবাহিনী ও জনগণের মধ্যে অটুট সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন সাইয়ারি। তিনি বলেন, সেনাবাহিনী দেশের মানুষের জন্য আত্মত্যাগ করে, আর জনগণ সেনাবাহিনীর আশ্রয়স্থল হয়ে থাকে। এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনী এবং সামগ্রিকভাবে সশস্ত্র বাহিনীর সব দায়িত্ব পালনে জনগণ যে সমর্থন দিয়ে এসেছে, তা নিয়ে জাতি গর্বিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সূত্র: ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি