যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করলে অঞ্চলজুড়ে ধারাবাহিক হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৭ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক হামলা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বিবৃতিতে ইরানি সামরিক কমান্ড বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের সমর্থন নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তাদের জানানো হয়েছে। এমন হামলা হলে অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি ও স্বার্থের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালানো হবে বলেও সতর্ক করেছে তারা।

ইরানি সামরিক কমান্ডের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কথিত আগ্রাসনে যেসব আঞ্চলিক দেশ সহযোগিতা করবে, তাদেরও সংঘাতের পক্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে বিবৃতিটি প্রকাশ করা হয়েছে।

এর আগে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ইরানের নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে পুনরায় আলোচনায় বসার জন্য মধ্যস্থতাকারীদের কাছে তেহরান কয়েকটি শর্ত জানিয়েছে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।

রেজাই বলেন, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে তেহরান এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফও জানিয়েছেন, নিজেদের শর্ত পূরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলবে না তেহরান। তাঁর ভাষ্য, ইরানকে একই সঙ্গে যুদ্ধ ও কূটনীতি চালিয়ে যেতে হবে। সামরিক শক্তির মাধ্যমে শত্রুর মোকাবিলা এবং উপযুক্ত সময়ে কূটনীতির মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জিত অবস্থান সুসংহত করার কথা বলেন তিনি।

এদিকে ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দাবি করে, হুথিরা রিয়াদ লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। জোটের ভাষ্য, ক্ষেপণাস্ত্রটি সফলভাবে শনাক্ত ও ধ্বংস করা হয়েছে। একই সঙ্গে সৌদির পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি শহর যেমন লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র ইয়ানবুতেও বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে জোট দাবি করেছে।

সৌদি আরবের সঙ্গে হুথিদের নতুন করে সংঘাতের প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও সতর্কতা জারি করেছে। ইসরায়েলে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন নাগরিকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। সম্ভাব্য বিমান বাতিল, আকাশপথ বন্ধ এবং ভ্রমণ বিঘ্নের বিষয়ে সতর্ক করে দূতাবাস বলেছে, সামরিক সংঘাত দ্রুত আরও বিস্তৃত হতে পারে।

রোববার যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফ মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে কায়রোতে বৈঠক করেন। মিসরের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, সিসি আঞ্চলিক সংকট রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পথে সমাধানের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অচলাবস্থার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক পথগুলোর নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সময়ে বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ঘিরে ইয়েমেনের পরিস্থিতিও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি

এএস
আরও পড়ুন