স্বাধীনতা রক্ষায় পিছপা হবে না সশস্ত্র বাহিনী: সেনাপ্রধান

ইরানের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে এক মুহূর্তও পিছপা হবে না দেশটির সশস্ত্র বাহিনী। পবিত্র প্রতিরক্ষা সপ্তাহের শুরু উপলক্ষে দেওয়া এক বার্তায় এ কথা বলেছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দেওয়া ওই বার্তায় হাতামি বলেন, পবিত্র প্রতিরক্ষা সপ্তাহ ইরানি জাতির সেই প্রতিরোধের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন দেশের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও ভূখণ্ড রক্ষায় নারী-পুরুষ সবাই শত্রুর ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। বিশ্বাস, আত্মত্যাগ ও দৃঢ়তার মাধ্যমে তারা শত্রুর পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছিলেন।

ইরানের সেনাপ্রধান বলেন, সেই প্রতিরোধের বহু বছর পরও ইরানি জাতি ও সশস্ত্র বাহিনী একই পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। পবিত্র প্রতিরক্ষার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ১২ দিনের ও ৪০ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধেও ইরান তার শক্তি, ঐক্য ও প্রস্তুতির প্রমাণ দিয়েছে। ইরানের নিরাপত্তা ও ভূখণ্ডের ওপর যেকোনো হামলার জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

হাতামি বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলো পবিত্র প্রতিরক্ষার সময়কার যুদ্ধের তুলনায় অস্ত্র, কৌশল ও পরিস্থিতির দিক থেকে ভিন্ন ছিল। তবে দুই সময়ের মধ্যে একটি বড় মিল রয়েছে, ইরানি জনগণ আবারও শত্রুর আগ্রাসন ও অতিরিক্ত দাবির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছে। আর বিশ্বাস, অভিজ্ঞতা ও নিজেদের তৈরি সামরিক সক্ষমতার ওপর ভর করে সশস্ত্র বাহিনী দেশের অস্তিত্ব ও ভূখণ্ড রক্ষা করেছে।

তিনি বলেন, পবিত্র প্রতিরক্ষা ইরানকে শিখিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা ও শক্তির জন্য জনগণের ঐক্য, সচেতনতা ও দৃঢ়তার পাশাপাশি শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনীও জরুরি। বছরের পর বছর ধরে নিজেদের ওপর বিশ্বাস রেখে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার ফল এখন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর আকাশ, স্থল ও জলসীমা রক্ষার প্রস্তুতিতে দেখা যাচ্ছে।

ইরানের সেনাপ্রধান আরও বলেন, দেশের নিজস্ব সক্ষমতার ওপর আস্থা এবং বহু বছরের প্রচেষ্টার ফলেই এই প্রতিরক্ষা শক্তি তৈরি হয়েছে। সর্বোচ্চ নেতার নেতৃত্বে এবং জনগণের সমর্থন নিয়ে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। দেশের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা ও ভূখণ্ড রক্ষায় তারা কোনো মুহূর্তেই পিছপা হবে না। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি