যুদ্ধ ইরানকে ভবিষ্যৎ হুমকি মোকাবিলার বড় শিক্ষা দিয়েছে: প্রতিরক্ষামন্ত্রী

সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ইরানকে মনে করিয়ে দিয়েছে যে ভবিষ্যতের হুমকি মোকাবিলায় দেশকে অবিরাম শেখা, উদ্ভাবন ও নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর পথে থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ ইবনে রেজা।

তেহরানের শহীদ চমরান আবাসিক এলাকার একটি বিদ্যালয়ে নতুন শিক্ষাবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘যুদ্ধের অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে, আমাদের সবসময় শিখতে হবে, নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে হবে, নিজেদের উন্নত করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ হুমকি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তবে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-আমাদের কেবল ভবিষ্যতের অপেক্ষায় বসে থাকলে চলবে না; আমাদের সেই ভবিষ্যৎকে কল্পনা করতে হবে, লালন করতে হবে এবং নিজ হাতে গড়ে তুলতে হবে।’

জেনারেল ইবনে রেজা জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যৎ গড়ার কাজ আজ থেকেই শুরু করতে হবে। তাঁর মতে, নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে সেগুলোর সমাধান খুঁজে বের করার মতো সৃজনশীল মেধার প্রয়োজনীয়তা এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।

ইরানের সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে জানা গেছে, নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর এই অনুষ্ঠানেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী তাঁর এই মন্তব্য করেন, যেখানে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সামনেই তিনি জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি সামরিক সংঘাতের মধ্য দিয়ে গেছে, যার প্রভাব এখনো দেশের নিরাপত্তা নীতিতে স্পষ্ট। এই প্রেক্ষাপটেই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এই মন্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা, কারণ এতে যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশলের নতুন দিক নির্দেশনার ইঙ্গিত মিলছে।

এর আগে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তা একাধিকবার দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন। আইআরজিসি-র মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি সম্প্রতি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইরান ‘পূর্ণ শক্তি’ দিয়ে জবাব দেবে। একই সুরে নেতার সামরিক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল ইয়াহইয়া রহিম সাফাভিও সতর্ক করেছিলেন, ইরানের ভূখণ্ডে কোনো বিদেশি বাহিনী অবতরণের চেষ্টা করলে তারা নিশ্চিতভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে।

এই ধারাবাহিকতায় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যকে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা কৌশলের একটি অংশ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা, যেখানে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি উদ্ভাবন ও শিক্ষার ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি