‘যুক্তরাষ্ট্রের নিষ্ঠুরতায় মিনাব স্কুলের আসন চিরতরে শূন্য’

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ বলেছেন, মিনাবের শাজারেহ তাইয়েবেহ স্কুলের শিক্ষার্থীদের আজ শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকার কথা ছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নিষ্ঠুরতা, সহিংসতা ও ঔদ্ধত্যই তাদের আসনগুলো অন্য ইরানি শিক্ষার্থীদের মাঝে চিরতরে শূন্য করে দিয়েছে।

নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আরেফ বলেন, ‘এই প্রিয় শিক্ষার্থীদের আজ শ্রেণিকক্ষে থাকার কথা ছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীর সহিংসতা ও বর্বরতা মিনাবের শিশুদের আসনগুলো ইরানি ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে খালি করে দিয়েছে।’

২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি হরমুজগান প্রদেশের মিনাব শহরে শাজারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো এক মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হন। সেদিন সকাল সাড়ে দশটার দিকে, যখন ক্লাস চলছিল, তখনই বিদ্যালয়ে আঘাত হানে একটি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র। এই হামলায় ভবনের ছাদ ধসে পড়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর।

ইরান সরকারের হিসাবে এই হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা প্রায় ১৬৫ জন, যাদের অধিকাংশই সাত থেকে বারো বছর বয়সী বালিকা শিক্ষার্থী। আহত হয়েছেন আরও প্রায় ৯৫ জন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং ফরেনসিক আর্কিটেকচারের স্বতন্ত্র তদন্তেও এই হামলায় ১৫৬ জনের প্রাণহানির তথ্য উঠে এসেছে, যাদের মধ্যে ১২০ জনই ছিল শিশু।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শাজারেহ তাইয়েবেহ স্কুল ও পাশের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র বহু বছর আগে থেকেই ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একটি নৌ-কম্পাউন্ড থেকে পৃথক করে প্রাচীর দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছিল এবং হামলার সময় এটি সম্পূর্ণ বেসামরিক প্রতিষ্ঠান হিসেবেই পরিচালিত হচ্ছিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাদের তদন্তে জানিয়েছে, বেসামরিক ক্ষতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিতে ব্যর্থ হয়েই যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করেছে।

হামলার পর থেকে ইরান সরকার একে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ দাবি করে আসছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসন হামলার বিষয়ে তদন্ত চলমান থাকার কথা জানালেও এখনো পূর্ণাঙ্গ কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।

আরেফের বক্তব্যে নতুন শিক্ষাবর্ষের সূচনালগ্নে মিনাবের শিশুদের হারানোর শোক আরও একবার জাতীয়ভাবে সামনে এলো, যা যুদ্ধের ক্ষত এখনো কতটা তাজা, তারই প্রতিফলন।

সূত্র: ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি

এটিটিআর
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত