প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, পেজেশকিয়ানকে যা বললেন আরাঘচি

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের দেওয়া প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পাওয়া ওয়াশিংটনের সেই জবাব ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে তুলে দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

ইরানের সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থাকে জানান, কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে মার্কিন জবাব পাওয়ার পর বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি উপস্থাপন করেন আরাঘচি। তবে ওয়াশিংটনের জবাবে ঠিক কী বলা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করেনি তেহরান।

এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, দোহায় আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করে মার্কিন প্রতিক্রিয়া পৌঁছে দিয়েছেন কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা। ইরানের সাত দিনের আস্থা তৈরির পরিকল্পনাকে ঘিরেই ওয়াশিংটনের এই জবাব দেওয়া হয়েছে। পারস্পরিক আস্থা তৈরির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার পথ পুনরায় সক্রিয় করা এবং হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই পরিকল্পনাটি দেওয়া হয়েছিল।

রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় মূল মতপার্থক্য পরিকল্পনার বিষয়বস্তু নিয়ে নয়; বরং কোন পদক্ষেপ আগে এবং কোনটি পরে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে। ইরান গত সপ্তাহে জানিয়েছিল, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরায় চালুর বিষয়ে তারা প্রস্তুত।

ইরানের প্রস্তাবে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছাড়ার মতো বিষয় রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপের পর হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বৃহত্তর ইস্যুতে আলোচনায় ফেরার কথা বলা হয়েছে।

তবে আলোচনার পরিধি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে। ফলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার পাশাপাশি পারমাণবিক ইস্যু কীভাবে আলোচনার কাঠামোয় যুক্ত হবে, সেটিও দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্যের জায়গা হয়ে উঠেছে।

মোহাজেরানি বলেন, ইরানকে রাজনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা সত্ত্বেও নিউইয়র্কে ইরানের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক মনোযোগ পেয়েছে। ইউরোপীয়, আরব ও অন্যান্য দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানের একাধিক বৈঠক হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের অবসান এবং সংকটের সমাধান খুঁজতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় কাতার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। মার্কিন জবাব পাওয়ার পর তেহরান কী পদক্ষেপ নেয় এবং হরমুজ পুনরায় খোলার ক্ষেত্রে কী কী শর্ত চূড়ান্ত করে, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।