ইরানের সাত দিনের শান্তি প্রস্তাবের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া পেয়েছে তেহরান। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে দোহায় বৈঠকের সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির হাতে মার্কিন প্রতিক্রিয়া তুলে দেওয়া হয় বলে আলোচনার বিষয়ে অবহিত এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) তেহরানে ফিরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন আরাঘচি।
ওই কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মূল মতপার্থক্য প্রস্তাবটির বিষয়বস্তু নিয়ে নয়; বরং কোন বিষয়টি আগে এবং কোনটি পরে বাস্তবায়ন করা হবে—তা নিয়ে। অর্থাৎ, প্রস্তাবের বিভিন্ন উপাদান নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতবিরোধ না থাকলেও বাস্তবায়নের ক্রম নিয়ে অমিল রয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবে সাত দিনের একটি পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো প্রথমে পারস্পরিক আস্থা তৈরি করা এবং পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে জুনে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আরও বিস্তৃত সংস্করণে ফিরে যাওয়া।
এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় ইরান এই সাত দিনের প্রস্তাব সামনে আনে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সংঘাত কমানো এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুসরণ করার কথা রয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক চাপ কমালে হরমুজ পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনায় অগ্রসর হতে পারে।
কাতার বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি মঙ্গলবার জানান, দোহা দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করছে এবং এমন একটি সমঝোতার ভিত্তি তৈরির চেষ্টা করছে, যা সংঘাতের পরিণতি কমাতে পারে।
তবে আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। একই সঙ্গে তিনি এমন খবরও অস্বীকার করেছেন যে, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরান নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিলে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা ইরানের জব্দ করা অর্থ ছাড়তে রাজি হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, তেহরান আলোচনায় প্রস্তুত থাকলেও চাপ বা জবরদস্তির মাধ্যমে কোনো সমঝোতা মেনে নেবে না। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল—এসব বিষয়ই সম্ভাব্য আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথটিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন পুনরায় চালু হওয়া এবং লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানি বাড়ায় মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ কিছুটা পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।
এখন আরাঘচির তেহরান সফরের পর ইরান মার্কিন প্রতিক্রিয়ার কী জবাব দেয় এবং সাত দিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্রম নিয়ে দুই পক্ষ কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে কি না, সেটিই আলোচনার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হয়ে উঠেছে।
বাংলা কিউআরে পিটুপি লেনদেন নভেম্বর থেকে শুরু
ধ্বংসস্তূপ থেকে ক্ষমতার শীর্ষে: মোজতবা খামেনির উত্থানের নেপথ্যে