ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের পরিণতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, মৃত্যুকে অনিবার্য দেখিয়ে মানুষের দুর্ভোগকে গুরুত্বহীন করে তোলার এই দৃষ্টিভঙ্গি রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।
বাঘাই একটি মার্কিন গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে ট্রাম্পের সাক্ষাৎকারের একটি অংশ পুনঃপ্রকাশ করে মন্তব্যগুলো তুলে ধরেন। সেখানে ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আগ্রাসনের পরিণতি সম্পর্কে এমন একটি বক্তব্য দিতে দেখা যায়, যার সারকথা ছিল, শেষ পর্যন্ত সবাই মারা যায়, তাই এতে কিছু যায় আসে না।
ইরানি মুখপাত্র বলেন, এটি কোনো সাধারণ রাজনৈতিক বক্তব্য নয়। তার মতে, এই ধরনের চিন্তাধারা আলবেয়ার কামুর নাটক কালিগুলার সেই মুহূর্তের কথা মনে করিয়ে দেয়, যখন অস্তিত্বের অসারতার ধারণা স্বৈরতন্ত্রে রূপ নেয়। মৃত্যুর অনিবার্যতাকে ব্যবহার করে জীবিত মানুষের মূল্য ও অন্যের দুর্ভোগকে গুরুত্বহীন করে তোলাই এর মূল বৈশিষ্ট্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বাঘাই বলেন, বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ পার্থক্য হলো ধ্বংসক্ষমতার ব্যাপকতা। প্রাচীন রোমের কালিগুলার হাতে ছিল সীমিত ও আদিম অস্ত্র, কিন্তু আধুনিক যুগের এই ধরনের নিহিলিজমের হাতে রয়েছে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর বিপুল সক্ষমতা।
তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বড় ভূরাজনৈতিক বিপদ কোনো নেতার নিজের মৃত্যুর অনিবার্যতার মুখোমুখি হওয়া নয়। বরং সেই ব্যবস্থা, যা মৃত্যুর অনিবার্যতাকে মানুষের দুর্ভোগের প্রতি উদাসীনতা ন্যায্যতা দেওয়ার যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করে।
বাঘাইের ভাষায়, আমরা সবাই মারা যাব, এটি একটি বাস্তবতা। কিন্তু সেখান থেকে তাই কিছু যায় আসে না, এই সিদ্ধান্তই সেই পর্যায়, যেখানে অস্তিত্বের আতঙ্ক একটি রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও বলেন, যারা কালিগুলার মতো শক্তিকে তুষ্ট করার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করেন, তারা ভুল করছেন। তার দাবি, এমন ধরনের রাজনৈতিক চিন্তাধারা কোনো নিয়ম বা চুক্তিকে স্বীকার করে না। তুষ্টির মাধ্যমে নিরাপত্তা কেনা যায় না; বরং এতে কেবল কারা পরবর্তী ভুক্তভোগী হবে, সেই ক্রম নির্ধারণের আলোচনা হয়। সূত্র: ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি