কানাডায় আদিবাসী শিশুদের ওপর নির্যাতনের সমালোচনা ইরানের

কানাডার আদিবাসী শিশুদের সঙ্গে  নির্যাতন ও অবহেলার ঘটনায় দেশটির সমালোচনা করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আদিবাসী শিশুদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার সত্য উদঘাটন ও জবাবদিহি নিশ্চিত না করে শুধু স্মরণ দিবস পালন বা রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে পুনর্মিলন সীমাবদ্ধ রাখা যায় না।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বাঘাই বলেন, কানাডার আদিবাসী শিশুদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে তাদের নাম, ভাষা, সংস্কৃতি ও পরিচয় কেড়ে নিয়ে জোরপূর্বক একীভূতকরণের একটি ব্যবস্থার মধ্যে রাখা হয়েছিল। তাদের অনেকে নির্যাতন ও অবহেলার শিকার হয়েছে। অনেক শিশু বাড়ি থেকে দূরে মারা গেছে এবং চিহ্নহীন কবরে তাদের দাফন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বর কানাডায় সত্য ও পুনর্মিলন দিবস হিসেবে পালিত হয়েছে। আবাসিক বিদ্যালয়ের বেঁচে থাকা শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারের প্রতি সম্মান জানানো এবং যেসব আদিবাসী শিশু আর কখনো বাড়ি ফিরতে পারেনি, তাদের স্মরণ করাই এই দিবসের উদ্দেশ্য। তবে শুধু একটি স্মরণ দিবস পালন কিংবা রাজনৈতিক বক্তব্যের মাধ্যমে পুনর্মিলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায় না।

বাঘাইের ভাষ্য, গুরুতর অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। আবাসিক বিদ্যালয়গুলোর ইতিহাস নিয়ে বিতর্ক বা অস্পষ্টতা থাকলে পুনর্মিলনের প্রক্রিয়াও অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

ইরানের এই মুখপাত্র বলেন, আদিবাসী শিশুদের ভোগান্তিকে সাংস্কৃতিক বিরোধের বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি ঐতিহাসিক সত্য ও জবাবদিহির প্রশ্ন। চিহ্নহীন কবর নিয়ে ওঠা প্রশ্নের ক্ষেত্রে প্রমাণ, স্বচ্ছতা এবং ঐতিহাসিক নথির সৎ পর্যালোচনা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, এসব প্রশ্নের জবাবে অস্বীকার, বিকৃতি বা নীরবতার পরিবর্তে সত্য উদঘাটন জরুরি। তার বক্তব্যের সারকথা ছিল, সত্য ছাড়া পুনর্মিলন এবং জবাবদিহি ছাড়া ন্যায়বিচার সম্ভব নয়। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি