ফ্রান্সজুড়ে চলছে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ-সংঘর্ষ, একদিনে গ্রেপ্তার ১৭৪৭

আপডেট : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষের সংকট, জরাজীর্ণ ভবন এবং শিক্ষা খাতে তহবিল বরাদ্দসহ বিভিন্ন দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী প্যারিসের বাইরে মঁপেলিয়ে, নঁত, মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে আন্দোলনে নেমেছেন সাত শতাধিক হাইস্কুলের শিক্ষার্থী।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এদিন দেশজুড়ে ১ হাজার ৭৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ।

গত সপ্তাহে প্যারিসে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল টিএফ-১কে বলেন, পরিস্থিতি এখন দাঙ্গা ও নগর সহিংসতার দিকে এগোচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বিচারমন্ত্রী জেরার্ড দারমানিন বলেন, পরিস্থিতি এখন আর শুধু ‘হাইস্কুল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে’ সীমাবদ্ধ নেই। এটি ‘জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার’ ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

তিনি জানান, সহিংস বিক্ষোভের কারণে দেশজুড়ে ৩ হাজার ৭০০টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৭৩৫টি কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিক্ষোভের সময় পুলিশ কিছু সামগ্রী জব্দ করেছে। প্রকাশিত ছবিতে পেট্রলবোমা, কুঠার ও আতশবাজি দেখা গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আন্দোলনের কারণে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএম টিভিকে বলেন, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বাইরের লোকজনও বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বেলফোর শহরে শুক্রবার বিক্ষোভের সময় এক পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হত্যাচেষ্টার সন্দেহে এ ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিবিসি ঘটনাটির দুটি ভিডিও ফুটেজ যাচাই করেছে। এতে দেখা যায়, একদল তরুণ ওই পুলিশ সদস্যকে ধাওয়া করছেন। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তাকে মাথায় বারবার ঘুষি ও লাথি মারা হয়।

ফ্রান্সের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে চলমান বিক্ষোভে তাদের অন্তত ৬৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন।

প্যারিসের উপকণ্ঠ পান্তিন এলাকায় পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছোড়া হলে পুলিশও বিক্ষোভকারীদের ওপর চড়াও হয়। সেখান থেকে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। স্ট্রাসবুর্গে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ। রেন ও প্যারিসে আবর্জনার ঝুড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

 

এমএজেড
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত