ইরানি বিমান চলাচলের জন্য ইরাকের সব বিমানবন্দর খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির ন্যাশনাল উইজডম মুভমেন্টের নেতা ও শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতা আম্মার আল-হাকিম।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) ইরাক সরকার ইরানি বিমান সংস্থাগুলোকে নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে দিনে সর্বোচ্চ ৪০টি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর এ আহ্বান জানান তিনি। তবে এ অনুমতির আওতায় মাহান এয়ারকে রাখা হয়নি।
ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ শিথিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান হাকিম। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত তীর্থযাত্রী, রোগী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের ওপর সম্ভাব্য ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
হাকিম এই সিদ্ধান্তকে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও যাতায়াত সহজ করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষ্য, সংলাপ ও গঠনমূলক কূটনীতির মাধ্যমে অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধান এবং প্রতিবন্ধকতা দূর করা সম্ভব। এতে ইরাক ও দেশটির জনগণের স্বার্থও রক্ষা করা যায়।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান ও দেশটির জনগণের প্রতি দৃঢ় সংহতি প্রকাশ করেন হাকিম। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে ইরাকের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে দেশের সব বিমানবন্দর পুনরায় ইরানি ফ্লাইটের জন্য খুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
হাকিম বলেন, ইরাক ও ইরানের মধ্যে বিমানপথ পুনরায় চালু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে মানবিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে। এতে দুই মুসলিম প্রতিবেশী দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে।
এর আগে ইরানি বিমান চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের পর ইরাকে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ে সমালোচনা শুরু হয়। সাবেক ইরাকি প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদি ইরানকে ইরাকের প্রতিবেশী, মিত্র ও বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করে বিমানবন্দর বন্ধের সিদ্ধান্তকে বড় ভুল বলে মন্তব্য করেন।
এ ছাড়া ইরাকের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভও হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে কিছু বিমান চলাচল-সংশ্লিষ্ট স্থাপনার জন্য নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় আদায়ের পর নাজাফ ও ইরানের বিভিন্ন বিমানবন্দরের মধ্যে বাণিজ্যিক ফ্লাইট আবার চালু করে ইরাকি এয়ারওয়েজ। সূত্র: প্রেস টিভি