ইরান ‘ভয়াবহভাবে ব্যর্থ’: ট্রাম্প

ইরান অর্থনীতি ও সামরিক শক্তি—উভয় ক্ষেত্রেই ভয়াবহ সংকটে রয়েছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও নাকচ করেননি তিনি। তাঁর এ বক্তব্যে ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ ও কূটনৈতিক আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র কেন এখনই ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিয়ে ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। জবাবে তিনি বলেন, “আমরা পদক্ষেপ নিতে পারি। দেখা যাক।”

এরপর ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, দেশটি ‘ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হচ্ছে’। তাঁর দাবি, ইরানের সামরিক বাহিনী পরাজিত, দেশটির নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী কার্যত নেই এবং মূল্যস্ফীতি ৩০০ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে এসব পরিসংখ্যান ও সামরিক মূল্যায়ন ট্রাম্পের বক্তব্য; স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য হিসেবে এগুলোকে ধরে নেওয়া যায় না। 

ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্য আগের দিনের ঘোষণার সঙ্গে আপাতদৃষ্টিতে সাংঘর্ষিক। ৮ অক্টোবর তিনি বলেছিলেন, ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালাবে না। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ চলছে বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।

কিন্তু পরদিন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে ‘আমরা নিতে পারি’ বলায় তাঁর অবস্থান নিয়ে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। যদিও তিনি সম্ভাব্য পদক্ষেপের ধরন, সময় কিংবা লক্ষ্য সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি। 

চলমান সংঘাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেলবাজার ও জাহাজ চলাচলে চাপ তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির ওপর অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার চাপ বজায় রেখেছে। অন্যদিকে, তেহরান অবরোধ প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা শিথিল না হলে চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলে জানিয়ে আসছে। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় জুনে যুদ্ধ বন্ধ ও আলোচনার পথ তৈরির জন্য একটি কাঠামোগত সমঝোতা হলেও নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল নিয়ে মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন আটকে রয়েছে। 

সাত মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের প্রভাব জ্বালানি বাজার, পরিবহন ব্যয় ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও জ্বালানির উচ্চমূল্য ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে অসন্তোষ বাড়ছে। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে বলে সংবাদমাধ্যমের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। 

তবে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী সময়সূচির ওপর নির্ভর করছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ নেই। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চললেও হরমুজ প্রণালি, নিষেধাজ্ঞা ও নিরাপত্তা নিয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যে তাই দুটি বার্তা স্পষ্ট: একদিকে তিনি ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক দুর্বলতার দাবি করছেন, অন্যদিকে নতুন হামলার সম্ভাবনাও খোলা রাখছেন। তেহরান ও ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে কূটনীতি এগোবে, নাকি সংঘাত আরও তীব্র হবে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্স।