ব্রিটিশ বিমানঘাঁটির ঘটনায় আইআরজিসিকে দায়ী করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি লক্ষ্য করে কথিত ষড়যন্ত্রের পেছনে ইরানের হাত থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। তার দাবি, পরিকল্পনাটি ইরানে সমন্বিত হয়ে থাকতে পারে এবং এর নির্দেশদাতা হিসেবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি প্রায় নিশ্চিতভাবেই জড়িত। সোমবার (১২ অক্টোবর) ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।

পার্লামেন্টে বার্নহ্যাম বলেন, ব্রিটিশ ভূখণ্ডে এ ধরনের হুমকি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। দেশের ভেতরে নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে, এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি। তার বক্তব্যে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিকে ঘিরে কথিত ষড়যন্ত্রের বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের উদ্বেগ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অবস্থান উঠে আসে।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, অপরাধী নেটওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে ইরান যেসব তৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো দমনে সরকার তার হাতে থাকা সব ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে। এসব নেটওয়ার্কের পাশাপাশি তাদের অর্থায়নের উৎসগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে কথিত তৎপরতায় জড়িত ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম সীমিত করার চেষ্টা চালানো হবে বলে তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

বার্নহ্যাম আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান ও আইআরজিসির ব্রিটেনের ক্ষতি করার সক্ষমতা সীমিত করতে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। তবে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার ধরন, লক্ষ্যবস্তু কিংবা বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

উল্লেখ্য, ফেয়ারফোর্ড ব্রিটেনের একটি রয়্যাল এয়ার ফোর্স ঘাঁটি। ঘাঁটিটিকে কেন্দ্র করে কথিত ষড়যন্ত্রের বিষয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাশাপাশি দেশটির ওপর আরও চাপ প্রয়োগের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে বার্নহ্যামের বক্তব্যে অভিযোগের পক্ষে বিস্তারিত প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি। সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল