ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সরকার উৎখাত করাই নয়, বরং ইরানের ইসলামি সভ্যতা ধ্বংস করাই যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আকরামিনিয়া। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাম্প্রতিক বক্তব্যের উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থার পতন ঘটানোর চেয়েও বিস্তৃত।
সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক ও আদর্শিক সংস্থা প্রতিষ্ঠার বার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া বক্তব্যে আকরামিনিয়া বলেন, ইরানের ইসলামি বিপ্লব বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিপ্লবের একটি। তাঁর মতে, এই বিপ্লবের বৈশিষ্ট্য শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তনে সীমাবদ্ধ নয়; এর একটি সুস্পষ্ট সাংস্কৃতিক ভিত্তি রয়েছে। ইসলামি শিক্ষা এবং ইমাম খোমেনির আধ্যাত্মিক নেতৃত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত দেশটির ইসলামি ব্যবস্থাও এই সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আকরামিনিয়া বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধে নিজেদের বিজয়ী হিসেবে তুলে ধরতে প্রতিপক্ষ যেসব বিভ্রান্তিকর বয়ান ছড়াচ্ছে, সেগুলোর মোকাবিলা করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধের সামরিক পরিস্থিতির পাশাপাশি এর সাংস্কৃতিক ও আদর্শিক দিক নিয়েও সচেতন থাকা প্রয়োজন।
গ্রিসের অ্যাক্রোপলিসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেন, এ ধরনের বক্তব্য ইরানের সাংস্কৃতিক প্রভাব ও মনস্তাত্ত্বিক শক্তির ভিত্তি দুর্বল করার প্রচেষ্টারই অংশ। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত দাবি করে, তাদের বিরোধিতা কেবল ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে, ইরানের জনগণের সঙ্গে নয়। কিন্তু রুবিওর বক্তব্যে সেই অবস্থানের আড়ালে থাকা প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রকাশ পেয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
আকরামিনিয়ার ভাষ্য, রুবিওর বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের কথিত দ্বিচারিতা এবং অন্য সভ্যতার প্রতি তাদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ মনোভাব সামনে এনেছে। তাঁর দাবি, বর্তমান যুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বের লক্ষ্য কেবল ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটানো নয়, বরং ইরানের ইসলামি সভ্যতাকে ধ্বংস করা।
এদিকে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে এমন বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েছে, যেখানে তার প্রধান মিত্ররা পাশে এসে দাঁড়ায়নি বলেও মন্তব্য করেন আকরামিনিয়া। তাঁর বক্তব্যে মিত্রদের অনুপস্থিতিকে ওয়াশিংটনের কৌশলগত অবস্থানের দুর্বলতার একটি দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়। তবে কোন কোন মিত্রের কথা তিনি বলেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি