উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি অর্জন ও নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সক্ষমতা ইরানের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি এবং দক্ষ জনশক্তির সামর্থ্যের প্রমাণ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ইরানের অর্জন দেখিয়ে দিয়েছে, দেশটির জনশক্তির মধ্যে মূল্যবান সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আরও এগিয়ে যেতে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে বাড়তি গুরুত্ব দিতে হবে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ইরানের ইসলামশাহরের ভাভান এলাকায় ইমাম আলী স্মার্ট স্কুলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানে সারা দেশে ৩ হাজার ৮৫১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, উন্নয়নমূলক ও ক্রীড়া প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।
পেজেশকিয়ান বলেন, শিক্ষার সুযোগে সমতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ এবং এ ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। তবে আরও অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে। দেশের উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে শিক্ষাব্যবস্থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য সমান শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, এমন পরিস্থিতি মেনে নেওয়া যায় না, যেখানে শিশুদের পড়াশোনার জন্য কোনো বিদ্যালয় নেই। সব শিশুর জন্য উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি শিশু ও কিশোর-কিশোরী যেন অনুকূল পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে এবং নিজেদের প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
বক্তব্যে ইরানের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি, নিহত বিপ্লবী নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনি এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধে প্রাণ হারানো শিক্ষার্থী, বিজ্ঞানী ও সামরিক কমান্ডারদের স্মরণ করেন পেজেশকিয়ান। তিনি বলেন, শিশুদের যথাযথ শিক্ষা ও উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হতে দেওয়া উচিত নয়।
সমাজের নানা সমস্যার পেছনে মানবসম্পদ গড়ে তোলা ও শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের ঘাটতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তাঁর ভাষায়, দেশের কোনো কোনো খাতে সমস্যা দেখা দিলে স্বীকার করতে হবে যে, সেসব সমস্যা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ ও যোগ্য মানুষ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়েছে।
ইরানের বৈজ্ঞানিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতার প্রসঙ্গ তুলে পেজেশকিয়ান বলেন, শত্রুদের বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানো এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের মতো উন্নত প্রযুক্তি অর্জনের সক্ষমতা দেশের জনশক্তি ও বৈজ্ঞানিক সামর্থ্যের পরিচয় দেয়। তবে বর্তমান অর্জনের চেয়েও অনেক বেশি সক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, ইরানকে এমন অবস্থানে পৌঁছাতে হবে, যাতে কোনো শত্রু দেশটির বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানোর সাহস না পায়। এ লক্ষ্য অর্জনে দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষাব্যবস্থার ভূমিকা মৌলিক।
সবশেষে শিক্ষাকে প্রত্যেক মানুষের অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে পেজেশকিয়ান বলেন, সব শিক্ষার্থীর জন্য সমানভাবে শেখার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তাঁর মতে, শিক্ষায় সমতা প্রতিষ্ঠা শুধু উন্নয়নের প্রয়োজন নয়, বরং প্রতিটি শিক্ষার্থীর ন্যায্য অধিকার। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি